যুক্তরাজ্যে ১৬-১৭ বছর বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’

যুক্তরাজ্যে ১৬-১৭ বছর বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’
প্রতীকী ছবি

যুক্তরাজ্যে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের জন্য রাতভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর ‘কারফিউ’ জারির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এই নিয়মে মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো অ্যাপগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের অ্যাকাউন্ট সেটিংস পরিবর্তন করে এই সুবিধা বন্ধ করতে পারবে।

সরকার একই সঙ্গে অটো-প্লে এবং ইনফিনিট স্ক্রোলের মতো ‘আসক্তি তৈরি করা’ ফিচারগুলোও নিষ্ক্রিয় করতে চায়।

বিজ্ঞাপন

সরকারের দাবি, কারফিউর পাশাপাশি এই পদক্ষেপগুলো কিশোর-কিশোরীদের মনোযোগ, ঘুমের মান এবং পারিবারিক জীবন উন্নত করবে। ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলো সংসদে উত্থাপন এবং আগামী বসন্তে এটি কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত জুন মাসে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

সরকারের এই উদ্যোগকে ‘অসম্পূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন শিশু সুরক্ষা কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। ২০২২ সালে অনলাইন চ্যালেঞ্জের কারণে ১৪ বছর বয়সি ছেলেকে হারানো এলেন রুম বলেন, এই পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। কারণ কিশোর-কিশোরীরা সহজেই এই সেটিংস বন্ধ করে দিতে পারে।

তিনি এটিকে ১৭ বছর বয়সির সামনে অ্যালকোহলের বোতল হাত থেকে সামান্য দূরে সরিয়ে রাখার সঙ্গে তুলনা করেন।

কনজারভেটিভ দলের শ্যাডো এডুকেশন সেক্রেটারি লরা ট্রট এই পরিকল্পনাকে ‘জগাখিচুড়ি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা উচিত কি না, তা নিয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান থাকা দরকার। সহজেই বন্ধ করা যায় এমন কারফিউ কোনো কাজে আসবে না।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই কারফিউর ফলে অসহায় শিশুরা মধ্যরাতে তাদের প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না, যা ক্ষতিকারক হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষক ম্যাট নাভারা এটিকে কারফিউর বদলে ‘বিরক্তিকর সেটিংস প্রম্পট’ বলে উপহাস করেছেন।

অনলাইন নিরাপত্তা মন্ত্রী কনিষ্ক নারায়ণ সরকারের এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এই নিয়মের ফলে প্রযুক্তি কোম্পানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্রিটেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পরিণত হবে।

প্রযুক্তি মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল জানান, এই পদক্ষেপ তরুণদের ঘুম নিশ্চিত করতে, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে এবং পরিবারকে সময় দিতে সাহায্য করবে।

ইংল্যান্ডের শিশু কমিশনার ডেম র‌্যাচেল ডি সুজা বলেন, তরুণেরা নিষেধাজ্ঞা চায় না, তবে আসক্তিপূর্ণ স্ক্রোলিং থেকে সুরক্ষা চায়।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রচেষ্টা ভিপিএন ব্যবহারের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তবে যুক্তরাজ্য সরকার আপাতত ভিপিএন-এর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আনছে না।

কনিষ্ক নারায়ণ জানান, তথ্য প্রকাশকারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর গোপনীয়তার জন্য ভিপিএন দরকারী। তাছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা বয়স যাচাইয়ের নিয়ম এড়াতে খুব একটা ভিপিএন ব্যবহার করে না।

সরকার ৩০০ জন তরুণের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছে যে, রাতভর কারফিউর ফলে ঘুমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সুবিধা পাওয়া যায়।

তবে বাথ স্পা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিট এচেলস সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফল প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার একটি অংশ মাত্র।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন