ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আরো ৭০ বিলিয়ন ডলার জরুরি বরাদ্দ চেয়েছে পেন্টাগন।
গতকাল দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই বিশাল অর্থ বরাদ্দের আবেদন তুলে ধরেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতেই এ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে বলে আবেদনে জানানো হয় ।
এই যুদ্ধের পেছনে মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ হাজার কোটি (৩৭.৫ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ করে ফেলেছে। পেন্টাগনের নতুন এই চাহিদার ফলে মার্কিন সরকারের যুদ্ধের ব্যয় এক ধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে, বুধবার দিবাগত রাতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১২তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল প্রায় ৭টার দিকে ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, বুশেহর অঞ্চলের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনারা।
বুশেহরের উপ-গভর্নর নিশ্চিত করেছেন, আজ সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো। এর আগে স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।
বুশেহরে আক্রমণের পরপরই খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেস্ক শহরের উপকণ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খুজেস্তানের উপ-গভর্নর এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হামলার বিষয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন দফার এই হামলায় ইরানের নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসহ একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
চলতি মাসে ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পাশাপাশি সমুদ্রে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে মার্কিন বাহিনী।
সেন্টকম জানায়, ইরানি বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজের আসা-যাওয়া ঠেকাতে তারা এ পর্যন্ত ৯টি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং একটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিয়োজিত রয়েছে। তারা চরম সতর্ক অবস্থানে থাকার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
এর আগে ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী শ্যালোমচে (সালামচেহ) সীমান্ত ক্রসিংয়ে মার্কিন হামলায় দুজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হন। সীমান্ত ক্রসিংটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, প্রাণহানি ও হামলার পরও সীমান্ত পারাপার সচল রাখা হয়েছে, কারণ সেখানে বর্তমানে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে সংঘাত নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে’ স্বাক্ষর করেছিল। তবে তা বর্তমানে পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। একদিকে মার্কিন বাহিনী টানা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালাচ্ছে তেহরান।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

