বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর প্রস্তাবের প্রতিবাদে শুক্রবার জার্মানির বিভিন্ন শহরে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে ৪৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৮ বছর বয়সী তরুণদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তলব শুরু করার পর এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
‘স্কুল স্ট্রাইক অ্যাগেইনস্ট কনস্ক্রিপশন’ উদ্যোগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জার্মানির ১০০টির বেশি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৮ বছর বয়সী পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের উপযোগিতা যাচাইয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাকা শুরু করে। খবর আনাদোলুর।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বিষয়ে আগ্রহের মাত্রা ১০-এর মধ্যে শূন্য উল্লেখ করা কয়েক শ তরুণকেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তলব করা হয়েছে।
কিল শহরের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী গোলো কির্শ বলেন, তাদের জানানো হয়েছিল আগামী বছর থেকে চিকিৎসা পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু তার কাছে নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই তলবের চিঠি এসেছে।
তিনি বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল এটি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের অংশ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা ২০২৭ সালে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই আমার মেইলবক্সে তলবপত্র চলে এসেছে এবং বুন্ডেসওয়েহর (সশস্ত্র বাহিনী) বলছে যে এই বাধ্যবাধকতা এখনই কার্যকর হচ্ছে। আমরা আজ জোরপূর্বক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেব না এবং আগামীকাল ব্যারাকেও যাব না।
শুক্রবার রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীরা বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বন্ধ, নতুন সামরিক সেবা আইন বাতিল এবং ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
জার্মানির নতুন সামরিক সেবা আইন ২০২৬ সালের শুরুতে কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় ১৮ বছর বয়সী সব পুরুষকে একটি প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হয়। এতে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, দক্ষতা এবং সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের আগ্রহ সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হয়।
বর্তমানে সামরিক সেবা ব্যবস্থা স্বেচ্ছামূলক থাকলেও বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ ফিরিয়ে আনার পথে এগোচ্ছে। তাদের মতে, এ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে এ বছর বাধ্যতামূলক প্রশ্নপত্র চালু করা হয়েছে। ২০০৮ সালে বা তার পরে জন্ম নেওয়া পুরুষদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার সক্ষমতা সীমিত থাকায় এটি ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে। দেশব্যাপী স্বাস্থ্য পরীক্ষা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়ার কথা।
জার্মান সশস্ত্র বাহিনীতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মোকাবিলায় নতুন সামরিক সেবা আইনটি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশটির সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪০০।
আন্তর্জাতিক সংকট বৃদ্ধি এবং ন্যাটোর নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের চেষ্টার মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি করার পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্যে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ প্রয়োজন হবে।
তবে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, শুধু স্বেচ্ছাসেবী ব্যবস্থার মাধ্যমে এই লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে। স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে দেশটির পার্লামেন্টকে আবারও আইন পর্যালোচনা করতে হবে। তখন প্রয়োজনভিত্তিক নিয়োগ থেকে শুরু করে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


-0452f2-720x405.webp)