প্রকাশ্যে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

প্রকাশ্যে পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট

ঈদকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের জারি করা পশু জবাই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, জবাই উপযোগী বলে সরকারি শংসাপত্র ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিজ্ঞাপন

গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গরু ও মহিষ জবাইয়ের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে আদালত আপাতত রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আদালত জানায়, রাজ্য সরকারকে শংসাপত্র প্রদানের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো পর্যালোচনা করতে হবে। এছাড়া আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মামলার শুনানি চলবে, তবে আপাতত বিদ্যমান বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী এক রায়ে গরু কোরবানি সংক্রান্ত যে মন্তব্য করা হয়েছিল, তা বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী, কোনো ছাড়ের আবেদন জমা পড়লে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।

শুনানিতে আদালত সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ‘বিহার রাজ্য সরকার বনাম মহম্মদ হানিফ কুরেশি’ মামলার পর্যবেক্ষণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। ওই মামলায় শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছিল, গরু জবাই ঈদ-উজ-জোহার অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ নয় এবং ইসলামে তা বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রয়োজন হিসেবেও বিবেচিত নয়।

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে মোট আটটি নির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ, মহিষের বাছুর এবং খোজা মহিষসহ নির্দিষ্ট প্রাণী জবাই করতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শংসাপত্র নিতে হবে। শংসাপত্র ছাড়া এসব প্রাণী জবাই করা আইনত দণ্ডনীয় হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন