ধ্বংসের রাজনীতিতে বিজেপি, কলকাতা থেকে উচ্ছেদ হল মেসির মূর্তি

কলকাতা প্রতিনিধি

ধ্বংসের রাজনীতিতে বিজেপি, কলকাতা থেকে উচ্ছেদ হল মেসির মূর্তি

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই যেন বুলডোজার আর ভাঙচুরের এক অলিখিত রাজত্ব কায়েম হয়েছে। হকার উচ্ছেদ থেকে শুরু করে স্টেশন চত্বরে বুলডোজার চালানো সরকারের কর্মকাণ্ডে বারবার উঠে এসেছে ধ্বংসের ছবি। এবার সেই ধ্বংসাত্মক মানসিকতারই কি নতুন শিকার লেকটাউনের বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিয়োনেল মেসির ৭০ ফুট উঁচু মূর্তিটি?

বিজ্ঞাপন

পূর্ত দফতর এবং বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করছেন, ঝড়ে মূর্তির ‘ফাউন্ডেশন বোল্ট’ আলগা হয়ে যাওয়ায় সেটি বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ক্রেন দিয়ে মূর্তিটি নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নাগরিকদের মনে একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বোল্ট আলগা হলে তো তা মেরামতও করা যেত, মূর্তিটিকে আগের জায়গাতেই সুরক্ষিত রাখা যেত। তাহলে একেবারে সরিয়ে দেওয়া হলো কেন?

এই ‘সরিয়ে দেওয়া’ বা ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ প্রবণতা আসলে বর্তমান শাসকদলের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক দৈন্যকেই তুলে ধরে। একটি মূর্তি, যা গত ডিসেম্বরে স্বয়ং মেসির উপস্থিতিতে উন্মোচিত হয়েছিল এবং যা ক্রীড়াপ্রেমী বাঙালির কাছে এক বিশেষ আবেগের জায়গা তৈরি করেছিল, তার সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পথ বেছে নিল না প্রশাসন। পরিবর্তে তারা বেছে নিল তাদের সবচেয়ে পরিচিত পথ উচ্ছেদ ও অপসারণ।

প্রশাসন বলছে, মূর্তিটি আপাতত পূর্ত দফতরের হেফাজতে ট্রাকে শায়িত অবস্থায় থাকবে এবং পরে হয়তো রবীন্দ্র সরোবর বা ইকো পার্কে বসানো হতে পারে। কিন্তু এই ‘হতে পারে’-র অনিশ্চয়তার আড়ালে আসলে লুকিয়ে আছে পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি যেকোনো কাঠামো বা স্মৃতিকে মুছে ফেলার এক মরিয়া রাজনৈতিক চেষ্টা।

রাজনীতি মানেই শুধু পূর্বসূরিদের কাজ ধ্বংস করা নয়, বরং তার রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং আরও উন্নত করা। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকার যেন ভাঙচুর, বুলডোজার আর উচ্ছেদ ছাড়া কোনো গঠনমূলক শব্দই বুঝতে অক্ষম। মেরামতের সামান্যতম সদিচ্ছাও না দেখিয়ে তড়িঘড়ি আন্তর্জাতিক স্তরের এক তারকার মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা সরকারের সেই ধ্বংসাত্মক রাজনীতিরই এক নগ্ন প্রতিফলন হয়ে রইল। যে সরকার গড়তে জানে না, কেবল ভাঙতে জানে, তাদের হাতে রাজ্যের ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত, লেকটাউনের এই শূন্য পাটাতন আজ সেই প্রশ্নই আরো বড় করে সামনে তুলে ধরছে।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন