অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য চায় ব্রিটিশ পুলিশ

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য চায় ব্রিটিশ পুলিশ
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। ছবি: সিএনএন

যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লস থ্রি-এর ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে নতুন করে সাধারণ মানুষকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ।

টেমস ভ্যালি পুলিশ শুক্রবার জানিয়েছে, প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিওজে) প্রকাশিত ফাইলের সূত্র ধরে তারা অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের বেশ কিছু দিক’ খতিয়ে দেখছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সাক্ষীর সঙ্গে কথাও বলেছে।

বিজ্ঞাপন

অসদাচরণের পাশাপাশি পুলিশ আরেকটি গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করছে। অভিযোগ উঠেছে, ২০১০ সালে এক নারীকে ‘যৌন উদ্দেশ্যে’ উইন্ডসরের একটি ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই পুলিশ এই অভিযোগের বিষয়ে অবগত হওয়ার কথা এবং তথ্যগুলো খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিল।

তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে ওই নারীর আইনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং জানিয়েছেন, তিনি যদি নিজে থেকে এগিয়ে আসতে চান তবে তার মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব ও যত্নসহকারে বিবেচনা করা হবে।

এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, ‘আমরা বুঝতে পারছি এই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলা কতটা কঠিন। তবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পুরো বিষয়টি তার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে, যখনই তিনি নিজেকে প্রস্তুত মনে করবেন।’

টেমস ভ্যালি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল অলিভার রাইট বলেন,‘গোয়েন্দারা বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করছেন এবং তদন্তটি বেশ ‘জটিল’ হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যৌক্তিক সব ধরনের তদন্তের বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যার কাছেই কোনো তথ্য আছে, আমরা তাকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এছাড়া টেমস ভ্যালি পুলিশ দেশব্যাপী অন্য পুলিশ বাহিনীকে এপস্টাইনের শিকার ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করছে বলেও জানানো হয়েছে।

এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য ফাঁসের পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ৬৬ বছর বয়সি অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে (সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ডিউক অব ইয়র্ক) সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি এবং তিনি ‘তদন্তাধীন’ হিসেবে মুক্ত আছেন।

অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করেছেন এপস্টাইনের অপরাধমূলক আচরণের কোনো কিছু তিনি কখনো দেখেননি বা সন্দেহ করেননি।

পুলিশের এই নতুন বিবৃতির ঠিক একদিন আগে ব্রিটিশ সরকার কিছু নথিপত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে ২০০১ সালে যুক্তরাজ্যের বিশেষ বাণিজ্য দূত হিসেবে অ্যান্ড্রুর নিয়োগের আগে তার কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড বা নিরাপত্তা যাচাই করা হয়নি। এই অবৈতনিক পদে থাকার সময় অ্যান্ড্রু বিশ্বজুড়ে সফর করেছেন এবং ব্যবসা ও সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাণিজ্য দূত থাকাকালীন তিনি এপস্টাইনের সঙ্গে কোনো গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করেছিলেন কি-না, পুলিশ আগে সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলেছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ককে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার দায়ে এপস্টাইন দোষী সাব্যস্ত হলে, তার তিন বছর পর ২০১১ সালে অ্যান্ড্রু ওই বাণিজ্য দূতের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন।

আধুনিক ইতিহাসের প্রথম ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতারের পর ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় নরফোকের স্যান্ড্রিংহামে তার বাড়ি এবং বার্কশায়ারের রয়্যাল লজে তার সাবেক বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ।

উল্লেখ্য, এই স্ক্যান্ডাল থেকে রাজপরিবারকে রক্ষা করতে গত বছরই রাজা চার্লস থ্রি অ্যান্ড্রুর সমস্ত রাজকীয় খেতাব ও সম্মাননা কেড়ে নিয়েছিলেন।

সূত্র: সিএনএন

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন