মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে যান, যা বললেন নারী আসামি

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে যান, যা বললেন নারী আসামি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার এক মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইক। ওই ঘটনার পর থেকে এখনো শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতারও সমালোচনা করেছেন এই বন্দি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার তার আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাইক জানান, প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের ঘটনার পর থেকে এমন কোনো মুহূর্ত যায়নি, যখন তিনি ব্যথামুক্ত ছিলেন। তার ভাষায়, শরীর, হাত, বাহু ও গলায় এখনো ব্যথা রয়েছে। এমনকি কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি মানসিক ও আত্মিকভাবেও গভীর কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বিবৃতিতে পাইক বলেন, সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতার কারণে এত মানুষকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে স্ট্রেচারে বেঁধে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তার শরীরে শিরাপথে ওষুধ প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শিরায় সঠিকভাবে ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চললেও প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের শক্তিশালী ঘুমের ওষুধের বড় মাত্রা প্রয়োগ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়নি।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশের পর চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়। পাইকের আইনজীবী, যিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন, তার দেওয়া বিবরণে পুরো প্রক্রিয়ার নানা ত্রুটি উঠে আসে।

বর্তমানে পাইককে ন্যাশভিলের ডেবরা জনসন পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে ১০ দিন নিবিড় চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে সেখানে ফিরিয়ে আনা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন তাকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। অন্য মানুষের সান্নিধ্য ও সম্পর্ক থেকে দূরে থাকাও তার জন্য নতুন করে মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে জীবনের প্রথম ২৮ বছরও তিনি নির্জন কারাবাসে কাটিয়েছেন।

এদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বরের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা টেনেসির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে পরবর্তী সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন রিপাবলিকান গভর্নর বিল লি।

তবে ক্রিস্টা পাইকের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে গভর্নর বিল লি বলেছেন, আদালত ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত পাইকের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল থাকবে বলে তিনি আশা করছেন।

নিজের বিবৃতিতে পাইক জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন তিনি মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। এমনকি নিজের পরিণতি মেনেও নিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় একাকী, বিভ্রান্ত ও যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় জেগে ওঠার পর থেকে কেন তিনি বেঁচে গেলেন এবং সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে ভাবছেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন নতুন করে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন। কোনো কোনো দিন আশাবাদী থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তবু ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে সাহস জোগাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পাইক। চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও জরুরি সেবাকর্মীদের পাশাপাশি তার পাশে দাঁড়ানো আইনজীবী এবং সহায়তাকারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিবৃতির শেষাংশে পাইক বলেন, অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সহমর্মিতা তাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, তিনি একা নন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন