যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী ও সিনেট নির্বাচনের লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে, মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী ড. আবদুল আল-সাইয়েদকে ঘিরে ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মার্কিন রাজনীতি। নির্বাচনে জয়লাভ করলে তিনি হবেন দেশটির ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর। আর এই সম্ভাবনা রুখতে তার রাজনৈতিক নীতি ও কর্মসূচির পরিবর্তে প্রকাশ্য ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসকে নিশানা করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ চালাচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা।
‘জিহাদি’ আখ্যা ও ট্রাম্পের তোপ
মিশিগানের রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনি জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি আক্রমণ করেন আল-সাইয়েদকে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বক্তৃতায় আল-সাইয়েদকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের জিহাদি সদস্য’ এবং ‘জিহাদি উন্মাদ’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। এমনকি আল-সাইয়েদ সিনেটে প্রবেশ করলে তাকে প্রতিদিন মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা উচিত বলেও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, একজন মুসলিম চিকিৎসক সিনেটর নির্বাচিত হলে খ্রিষ্টানদের বড়দিন পালনও নাকি অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি
ভোটের মেরুকরণ চূড়ান্ত করতে ট্রাম্প বলেন, কোনো কৃষ্ণাঙ্গ বা ইহুদি ভোটার যদি আবদুল আল-সাইয়েদকে ভোট দেয়, তবে সে নির্ঘাত পাগল। তিনি আরো দাবি করেন, আল-সাইয়েদ নাকি ইহুদি ও ইসরাইলকে মন থেকে ঘৃণা করেন। রিপাবলিকান শিবির থেকে আল-সাইয়েদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের কাল্পনিক সংযোগের অভিযোগও তোলা হচ্ছে।
অন্যান্য রিপাবলিকানদের আক্রমণ
শুধু ট্রাম্পই নন, রিপাবলিকান শিবিরের অন্য প্রভাবশালী নেতারাও আল-সাইয়েদকে রুখতে চরম আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করছেন। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ তাকে প্রকাশ্যে জিহাদি লেপ্রিকন (আয়ারল্যান্ডের রূপকথার বামন চরিত্র) বলে ব্যঙ্গ করেছেন।
ওহাইওর সিনেটর বার্নি মোরেনো অভিযোগ তুলেছেন, আল-সাইয়েদের মতো ব্যক্তির কোনোভাবেই ওয়াশিংটন ডিসির ধারেকাছে থাকা উচিত নয় এবং তার উপস্থিতি নাকি একজন আমেরিকান হিসেবে তার জন্য অপমানজনক।
আল-সাইয়েদের জবাব
এসব ইসলামবিদ্বেষী ও ব্যক্তিগত আক্রমণকে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন ড. আবদুল আল-সাইয়েদ। মিশিগানে জন্ম নেওয়া এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রিধারী এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চরমপন্থার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, রিপাবলিকানদের কাছে গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কিংবা করপোরেট সিন্ডিকেট ভাঙার মতো কার্যকর নীতিগত যুক্তি না থাকায় তারা ভোটারদের দৃষ্টি সরাতে তার নাম ও ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানের এই নির্বাচন এখন কেবল একটি সিনেট আসনের লড়াই নয়; বরং মার্কিন রাজনীতিতে পরিচয়বাদী বিভাজন ও ইসলামবিদ্বেষ কতটা কার্যকর অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায়, নাকি প্রগতিশীল রাজনৈতিক বার্তা বিজয়ী হয়—তারই এক বড় পরীক্ষা।
আমেরিকার প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার দৌড়ে আবদুল আল-সাইয়েদের প্রচারণা ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক আক্রমণের বিস্তারিত জানতে ডয়চে ভেলের এই ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন। এই ভিডিওটিতে নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ও প্রার্থীদের অবস্থান সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


