ব্রিটেনে মামলায় হারলো মেটা, টিকটক ও এক্স

ব্রিটেনে মামলায় হারলো মেটা, টিকটক ও এক্স
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাজ্যের অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় তথ্য চাওয়ার বিষয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে হেরেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা, টিকটক ও এক্স। শুক্রবার লন্ডনের হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠান তিনটির করা মামলা খারিজ করে দেন। যুক্তরাজ্যের নতুন অনলাইন নিরাপত্তা আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

বিজ্ঞাপন

২০২৩ সালে প্রণীত অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের বিভিন্ন বিধান নিয়ে করা মামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এ আইনে টিকটক, এক্স এবং মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য কঠোর নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের অবৈধ ও ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

শুক্রবারের রায় অফকমের জন্য বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আদায় করা ফি ও সম্ভাব্য জরিমানার হিসাব নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে মেটার করা পৃথক মামলার রায় এখনও বাকি। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপকে আইনের আওতায় কোন শ্রেণিতে রাখা হবে, তা নিয়েও অফকমের সঙ্গে আইনি বিরোধে জড়িয়েছে মেটা। চলতি মাসের শুরুতে অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় অফকমের প্রথম আনুষ্ঠানিক তদন্তের মুখেও পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে মেটা ও এক্স তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। টিকটক জানিয়েছে, তারা আদালতের রায় পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ধাপে ধাপে অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের বিভিন্ন বিধান কার্যকর করছে অফকম। আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে মেটা, টিকটক ও এক্সকে তথ্য সরবরাহের নোটিশ দেয় অফকম। এতে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও পর্যালোচনার বিস্তারিত পরিসংখ্যান চাওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল কতগুলো পোস্ট সরানো হয়েছে বা সেগুলোর দৃশ্যমানতা সীমিত করা হয়েছে এবং কতসংখ্যক ব্যবহারকারী ক্ষতিকর কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছেন, সেই তথ্য।

তবে প্রতিষ্ঠান তিনটির দাবি ছিল, অফকমের এসব নোটিশ তাদের ওপর নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণমূলক চাপ তৈরি করছে। এক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য চাওয়ার জবাব দিতে গিয়ে তাদের কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হতে পারে।

কিন্তু হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব যুক্তি গ্রহণ করেননি। তথ্য সরবরাহের নির্দেশনাকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তাদের করা আপত্তিও আদালত খারিজ করে দেন।

আদালতের রায়ের পর অফকমের এক মুখপাত্র বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতার একটি মৌলিক অংশ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...