আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত- আইসিসি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানায় সংস্থাটি।
বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাদের বিচারিক কাজ অব্যাহত থাকবে। বিবৃতিতে সংস্থাটি কর্মীদের পাশে ‘দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর’ ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি বলছে, এই আদেশ তাদের ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ’ কাজের ক্ষতি করার চেষ্টা ।
সংস্থাটি বিবৃতিতে জানায়, কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং এর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারিক কাজের ক্ষতি করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশ জারির নিন্দা জানিয়েছে আইসিসি। আদালত তার কর্মীদের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে, সামনের যে কোনো পরিস্থিতিতে, লাখ লাখ নিরীহ ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার এবং আশা প্রদান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প আইসিসির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা জারিসংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। আদেশে আইসিসির পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও ভিত্তিহীন কার্যক্রম’ বলে অভিহিত করা হয়।
এ বিষয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসির কর্মকর্তা এবং আমেরিকা ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্তে যারাই সহযোগিতা করবে, তাদের সবার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে ইসরাইলকে একটি ‘গণতান্ত্রিক দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যাদের ‘সামরিক বাহিনী কঠোরভাবে যুদ্ধের আইন মেনে চলে।’
এতে বলা হয়, ‘ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ভয়াবহ বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ আমেরিকার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরির জন্য আইসিসিকে বিবৃতিতে অভিযুক্ত করা হয়। আইসিসি হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদালত। যদিও আমেরিকা ও ইসরাইলের সদস্য নয়। তবে বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশ এ আদালতের সদস্য।
গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর সেখানে যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে আইসিসি। পুরো ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে গত বছরের নভেম্বরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইওয়াভ গ্যালান্ট ও হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধে আইসিসি থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
গত ৩০ জানুয়ারি হামাসের পক্ষ থেকে গাজা যুদ্ধে মোহাম্মদ দেইফের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ‘আফগান নারীদের নির্যাতন’-এর অভিযোগে তালেবান নেতা এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে করা অপরাধের কারণে মিয়ানমারের সেনা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এ আদালত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

