তাইওয়ানে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি। এতে একজন নিহত ও ৩৫০ জন আহত হয়েছেন। ঝড়ের কারণে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, দোকানপাট ও স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে এবং হাজারো বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় লোকজনকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে বয়ে যায় টাইফুনটি। আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের সঙ্গে ধ্বংসাত্মক বেগের বাতাস বয়ে যেতে পারে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাস কর্মকর্তা লিন পিং-ইউ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ রাত থেকে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত সর্বত্র প্রবল বাতাস ও ঝড়ো আবহাওয়া থাকবে। দয়া করে ঘরের ভেতরে থাকার চেষ্টা করুন।’
চাম্পি একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। তখন এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বা ১৮৬ মাইল পর্যন্ত উঠেছিল। পরে ঝড়টি দুর্বল হয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বা ১১৫ মাইল।
তবে শনিবার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে চাম্পির প্রভাবে সর্বোচ্চ ৯০০ মিলিমিটার বা ৩৫ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে দ্বীপটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। শুক্রবারই ইলান কাউন্টিতে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া প্রশাসনের আরেক পূর্বাভাস কর্মকর্তা লু কুও-চেন বলেন, চাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের কাছে এসে ধীরগতিতে চলতে পারে। এতে দ্বীপটিতে ঝড়ের প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চাম্পি এখন চীন ও জাপানের দিকে এগোচ্ছে। এর প্রভাবে অঞ্চলজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জেও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে সেখানে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি কিছু সময় ওকিনাওয়ার কাছে অবস্থান করতে পারে। এরপর চীনের পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে এগিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে জাপানের মূল ভূখণ্ডের দিকে যেতে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলতি বছরের ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে এল নিনোর প্রভাব রয়েছে। চাম্পি এই মৌসুমের সর্বশেষ শক্তিশালী ঝড়।
বুধবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র এল নিনো এবার অস্বাভাবিক শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ‘বর্তমান এল নিনো শক্তির দিক থেকে নজিরবিহীন হতে পারে। গত চার দশকে আমরা যে পর্যবেক্ষণ তালিকা ব্যবহার করেছি, এর মাত্রা আক্ষরিক অর্থেই তার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’
এল নিনো চলতি বছরের ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাব ২০২৭ সাল এবং তার পরও অব্যাহত থাকতে পারে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

