চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের মরুভূমিতে নির্মাণাধীন বিশাল সামরিক স্থাপনার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় অষ্টভুজাকৃতির একটি বৃহৎ সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে বেইজিং, যেখানে শত শত বাঙ্কার, ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চপ্যাড এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রের পাশেই এই বিশাল সামরিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চীনের কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরো পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রাখতে বিকল্প ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো তৈরি করছে চীন। অষ্টভুজাকৃতির এই স্থাপনায় উত্তর ও দক্ষিণ অংশে কয়েকশো ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চপ্যাড নির্মাণের কাজ চলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত সেগুলো সক্রিয় করার উপযোগী করেই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপগ্রহচিত্রে আরো দেখা গেছে, সামরিক স্থাপনাটির আশপাশে সেনাছাউনি, কমান্ড সেন্টার, সামরিক যানবাহনের জন্য সুবিধা, সড়কপথ, রেললাইন এবং বিমানঘাঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে এটি কেবল একটি অস্ত্রভান্ডার নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক কমপ্লেক্সে পরিণত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের হাতে এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বহু শহরে আঘাত হানতে সক্ষম। এসব অস্ত্রকে সুরক্ষিত রাখা এবং সম্ভাব্য হামলার পরো কার্যকর রাখার উদ্দেশ্যেই মরুভূমির নিচে বিস্তৃত বাঙ্কার ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
হাওয়াই প্যাসিফিক ফোরাম থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নিল জানিয়েছেন, কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে চীন কার্যত একটি ‘পাতাল অস্ত্রভান্ডার’ গড়ে তুলছে। তার মতে, সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক পারমাণবিক হামলার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বেইজিংয়ের।
এদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন এক হাজার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সামরিক স্থাপনার উপগ্রহচিত্র প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব জিনজিয়াং অঞ্চলে গত ছয় বছর ধরে অন্তত দুটি অষ্টভুজাকৃতির বৃহৎ সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করছে চীন। এসব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও, বিশ্লেষকদের বড় অংশই এটিকে চীনের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা জোরদারের কৌশল হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



ইসরাইলি গণহত্যা অব্যাহত, গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার