ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গোপনে সক্রিয় সামরিক ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’। পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে আমিরাত ইরানের অভ্যন্তরে কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর কাছাকাছি সময়েই আমিরাত ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা শুরু করে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন পর্যন্তও এসব অভিযান অব্যাহত ছিল। জার্নালের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নেতৃত্বাধীন অভিযানে আবুধাবির সম্পৃক্ততা আগে ধারণা করা তুলনায় অনেক বেশি গভীর ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল হরমুজ প্রণালীর কেশম ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহর পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। এর মধ্যে আসালুয়েহর স্থাপনায় হামলাটি ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এ হামলা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে ওয়াশিংটন ইসরাইলকে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আর কোনো হামলা না চালানোর নির্দেশ দেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, আমিরাতের কিছু হামলা ছিল ইরানের পাল্টা আক্রমণের জবাব। যুদ্ধ চলাকালে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে ২ হাজার ৮০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে আবুধাবি ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের এই অবস্থান উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভিন্ন ছিল। যেখানে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ ইরানের বিষয়ে তুলনামূলক সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছিল, সেখানে আবুধাবি সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ার পথ বেছে নেয়।
জার্নালের মতে, যুদ্ধবিরতির কয়েকদিন আগে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অভিযোগ জানায় যে, ইরানে আমিরাতের হামলা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। রিয়াদ চেয়েছিল, ওয়াশিংটন যেন আবুধাবির ওপর চাপ সৃষ্টি করে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশ নিতে উৎসাহিত করে।
উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ এতে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। যদিও ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছিল সৌদি আরব, তবে তারা সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।
এদিকে প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাত এবং এর পরিণতির জন্য সম্পূর্ণ দায় ইরানের।
উল্লেখ্য, এর আগেও ইরানের অভ্যন্তরে আমিরাতের হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার সময় লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগারে একটি হামলার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং স্থাপনাটির উৎপাদন সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা যায়।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


