সহিংস বিক্ষোভের পর নেপাল পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। দুই দিনের বিক্ষোভের পর দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে সেনাবাহিনী। অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে চলছে আলোচনা।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া জেন-জিরা জানিয়েছেন, তারা ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে দূরে ছিলেন। তবে তাদের বিক্ষোভ ছিনতাই করে নিয়েছে সুযোগসন্ধানীরা।
বিক্ষোভের পর চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সেনাবাহিনী। এরপরও বুধবার কেউ কেউ বাইরে বেরিয়েছিলেন। বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কার করেন তারা।
১৪ বছর বয়সী ক্ষ্যাং লামা বলেন, ‘নেপালে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি চলে আসছে। আমার মনে হয় জাতির পরিবর্তনের এখনই সময়। আমি সত্যিই আশা করি এই বিক্ষোভে আমাদের দেশে ইতিবাচক কিছু বয়ে আনতে পারবে।’ অবশ্য বিক্ষোভে তিনি অংশ নেননি বলে জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২৪ বছর বয়সী পরশ প্রতাপ হামাল বলেন, নেপালে একজন স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহকে একজন ভালো নেতা মনে করেন এই তরুণ।
৩৬ বছর বয়সী রাকেশ নিরুলা বলেন, ‘বিপ্লবের পর মানুষ এখন আশাবাদী। অপেক্ষাকৃত ভালো শাসনব্যবস্থার আশা করছেন তারা।’
তার মতে, ‘এই বিক্ষোভ দেশের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য একটি শিক্ষা। তারা নিজেদের যোগ্যতা বাড়াতে এ বিক্ষোভ থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। আর এতে করে দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।’
পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেও, অনেক নেপালি বিবিসিকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতা এবং ভাঙচুর তাদের অবাক করে দিয়েছে।
নিরাউলা বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি এটি হওয়া উচিত ছিল না।’
ললিতপুরের বাসিন্দা উদ্যোক্তা প্রভাত পাওডেল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের মতো সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়ায় তিনি অবাক হয়েছেন।
তবে অনেক বিক্ষোভকারী আশঙ্কা করছেন, অনুপ্রবেশকারীরা এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। একই দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনীও।
নেপালের সামরিক মুখপাত্র রাজারাম বাসনেট বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা মূলত তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে লুটপাট, আগুন লাগানো এবং বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়েছে।’
বিক্ষোভকারীরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আন্দোলন অহিংস ছিল এবং এখনো আছে। শান্তিপূর্ণ নাগরিক অংশগ্রহণের নীতির ওপর ভিত্তি করে এটি পরিচালিত হয়েছে।’
তারা আরো জানিয়েছে যে বুধবারের পর থেকে আর কোনো বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়নি।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



