ট্রাম্পকে কি অপসারণ সম্ভব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ট্রাম্পকে কি অপসারণ সম্ভব

ইস্টার সানডে উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে একটি পোস্ট লেখেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে লিখেছেন : ‘স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হবে ইরানে বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু দিবস, দুটিই একসঙ্গে ধ্বংস করা হবে। এর মতো আর কিছুই হবে না। ইরানের সবাই পাগল, হরমুজ খুলে না দিলে সবাইকে জাহান্নামে পড়তে হবে। এখন শুধু দেখার অপেক্ষা।’

ট্রাম্পের এমন সব হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ‘অবৈধ’ যুদ্ধ উসকে দেওয়ার অভিযোগে তাকে অভিশংসন বা ক্ষমতাচ্যুত করতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির একাধিক আইনপ্রণেতা। এজন্য মন্ত্রিসভার প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এক্সে লিখেছেন : ‘আমি যদি ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তাহলে ইস্টারের দিনটি ২৫তম সংশোধনী নিয়ে সাংবিধানিক আইনজীবীদের ফোন করে কাটাতাম। এটা সম্পূর্ণ, চূড়ান্তভাবে ভারসাম্যহীন। তিনি ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। তিনি আরো হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে চলেছেন।’

অ্যারিজোনার কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা ইয়াসমিন আনসারী এবং নিউ মেক্সিকোর মেলানি স্ট্যান্সবারিসহ অন্য ডেমোক্র্যাটরাও ট্রাম্পকে অপসারণের জন্য এই সংশোধনীটি প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। ইয়াসমিন আনসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন : ট্রাম্প একটি ভয়াবহ ও অবৈধ যুদ্ধ উসকে দিচ্ছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন এবং ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় তার বক্তব্য সব সীমা অতিক্রম করেছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়ে আসছেন ডেমোক্র্যাটরা, যার মধ্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে হামলার পরের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত। শুধু তা-ই নয়, গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পাঁয়তারার জবাবে এই সংশোধনীটি প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কেই।

১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুক্ত হওয়া ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য মনে করেন, প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম বা অযোগ্য, তবে তারা তাকে সরিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।

এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে।

কিছু রিপাবলিকান ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে পদ থেকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন । কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল তার ‘স্মৃতিশক্তি দুর্বল’।

তবে এতসব দলীয় বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও একজন প্রেসিডেন্টকে অপসারণের এই আইনি প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ট্রাম্পের প্রতি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, তার মন্ত্রিসভা এবং কংগ্রেসে থাকা অধিকাংশ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার জোরালো সমর্থন রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবির প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গেল বলেছেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জন্য প্রায় ৮ কোটি মানুষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছেন। সেই নীতি বাস্তবায়নে জনগণের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ; অন্যদিকে দেশের ভেতরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই সাংবিধানিক বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এখন এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, ট্রাম্পকে পদ থেকে অপসারণের সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে এসেছে এক জরিপে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রিত প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্মগুলোর অন্যতম ‘কালশি’তে ‘ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় কি ২৫তম সংশোধনী ব্যবহার করা হবে?’ শিরোনামে একটি চুক্তি আয়োজন করেছিল, যেখানে ট্রেডারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের শেয়ারের দাম বেড়েছে, যা গত এক মাসের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কালশির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই জরিপটি ১৫ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ দিয়ে শুরু হয়েছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...