আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে তাইওয়ানের মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরের ইউনাগুনি দ্বীপ-এ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জানান, ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে দ্বীপটিতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ২০৩০ অর্থবছরকে সামনে রেখে সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ জাপান-চীন সম্পর্ককে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভর্নেন্স ইনোভেশনের সিনিয়র ফেলো আইনার টাঙ্গেন মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-র আসন্ন ওয়াশিংটন সফরের আগে টোকিও কৌশলগত অবস্থান জোরদার করতেই এমন ঘোষণা দিয়েছে। তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পৃক্ততা বেইজিংয়ের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
ঐতিহাসিকভাবে তাইওয়ান প্রশ্নে জাপান ও চীনের বিরোধ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে তাকাইচি তাইওয়ান সংঘাতে সম্ভাব্য জাপানি সামরিক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং “আগুন নিয়ে খেলা” হিসেবে অভিহিত করেছে।
প্রতিক্রিয়ায় চীন জাপানে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা, বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি এবং প্রায় ২০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি টোকিওর চিড়িয়াখানায় থাকা জায়ান্ট পান্ডাও ফেরত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষক আরনাড বার্ট্রান্ড মনে করেন, ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে শান্তিবাদী সংবিধানের পুনর্ব্যাখ্যার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, বর্তমান সামরিকায়ন তারই ধারাবাহিকতা। জাপান এখন রাশিয়ার পরিবর্তে পূর্ব চীন সাগরে চীনের সামরিক তৎপরতাকেই প্রধান প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, উত্তেজনা আরও বাড়লে চীন জাপানের অটোমোবাইল শিল্পসহ বৃহত্তর অর্থনীতির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। যেহেতু চীন জাপানের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, তাই এই সামরিক উত্তেজনা টোকিওর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

