মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করার পরিকল্পনা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাস্ক।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইলন মাস্ক লেখেন, ‘তলোয়ার দিয়ে বাঁচলে তলোয়ারেই মৃত্যু হবে।’
মাস্ক বলেন, ‘যারা আমার সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে, তাদের বুঝতে হবে—নেপথ্যে আসলে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা আমি খুঁজে বের করব এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে যাব। আমি কেবল তাদের হাতের পুতুলদের নয়, বরং মূল হোতাদের লক্ষ্যবস্তু করব।’
মাস্ক নিয়মিত এই প্ল্যাটফর্ম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারের কাজে ব্যবহার করে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিত মাস্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম প্রধান অর্থদাতা। তিনি প্রায়ই প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তার কোম্পানি স্পেসএক্সের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে বড় বড় কাজ (সরকারি চুক্তি) পেয়ে থাকেন। এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার নিয়ন্ত্রণও তার হাতে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পেছনে বিপুল অর্থায়নের পর মাস্ক মার্কিন সরকারের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একটি বিতর্কিত কর্মসূচি পরিচালনা করেন। ওই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩ লাখ সরকারি কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কমিটিগুলোর নেতৃত্ব তাদের হাতে চলে আসবে। এসব কমিটির সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার ক্ষমতাও রয়েছে। ফলে তদন্তের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন ইলন মাস্ক।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


