বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ইলন মাস্ক। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি অনুযায়ী, মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তার সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেও তার ব্যক্তিগত জীবনযাপন এখনো বেশ সাদামাটা।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ফরচুন ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি স্পেসএক্সের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানিটির মূল্যায়ন ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। শেয়ারেরমূল্য বাড়ায় মাস্কের স্পেসএক্স ও টেসলা-তে থাকা শেয়ারের সম্মিলিত মূল্য তাকে ট্রিলিয়নিয়ারদের কাতারে নিয়ে আসে।
তবে অবাক করার বিষয় হলো, মাস্কের প্রধান আবাসস্থল কোনো বিলাসবহুল প্রাসাদ নয়। তিনি টেক্সাসের বোকা চিকা এলাকায় স্পেসএক্সের স্টারবেজের কাছে একটি ছোট প্রিফ্যাব্রিকেটেড বাড়িতে বসবাস করেন বলে জানিয়েছেন। ২০২১ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, আমার প্রধান বাসা স্টারবেজে প্রায় ৫০ হাজার ডলারের একটি বাড়ি, যা আমি স্পেসএক্স থেকে ভাড়া নিয়েছি।
হাউজিং স্টার্টআপ বক্সাবল নির্মিত এই বাড়িটির আয়তন মাত্র ২০ ফুট বাই ২০ ফুট। ছোট হলেও এতে রয়েছে বসার জায়গা, শয়নকক্ষ, রান্নাঘর এবং বাথরুম।
২০২০ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে টেক্সাসে চলে যাওয়ার পর মাস্ক তার অধিকাংশ বিলাসবহুল সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। যদিও অস্টিনের অভিজাত ওয়েস্ট লেক হিলস এলাকায় তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় কয়েকটি বড় বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে, তবুও তিনি নিজে সাধারণ এই ঘরেই থাকেন।
মাস্কের জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসন ২০২৩ সালে তার বাড়ির একটি ছবি প্রকাশ করে এটিকে ‘অত্যন্ত সাধারণ দুই বেডরুমের বাড়ি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। সেখানে একটি কাঠের টেবিলে বসেই মাস্ক বিভিন্ন ব্যবসায়িক ফোনকল করতেন বলে উল্লেখ করা হয়।
মাস্কের মা মে মাস্ক-ও সম্প্রতি এক পোস্টে তার ছেলের বাসার সাধারণ পরিবেশের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাসার ফ্রিজে প্রায় কোনো খাবারই ছিল না এবং তিনি গ্যারেজে রাত কাটিয়েছেন।
কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত মাস্ক অতীতেও কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার অভ্যাস দেখিয়েছেন। টেসলার মডেল ৩ উৎপাদন সংকটের সময় তিনি কারখানাতেই রাত কাটিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
এদিকে মাস্কের এমন জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরল জীবনধারার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ এটিকে জনমনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির কৌশল বলেও মন্তব্য করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


