কানাডার আর্কটিকে ২ বিলিয়ন বছরের পুরোনো বিরল হলুদ হীরা উদ্ধার

আমার দেশ অনলাইন

কানাডার আর্কটিকে ২ বিলিয়ন বছরের পুরোনো বিরল হলুদ হীরা উদ্ধার

কানাডার নর্থওয়েস্ট টেরিটরিজে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত হীরা খনি থেকে সম্প্রতি ১৫৮.২০ ক্যারেট ওজনের একটি বিরল হলুদ হীরা উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে খনিশ্রমিকেরা এটি খুঁজে পান এবং ১ এপ্রিল রিও টিন্টো কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে এই আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়।

বিজ্ঞাপন

খনিটির নাম ডায়াভিক ডায়মন্ড মাইন। এটি লেক অব গ্রাসের (ল্যাক দ্য গ্রাস) একটি ছোট দ্বীপে অবস্থিত, যা আর্কটিক সার্কেলের প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে। এখানে পৌঁছানো যায় কেবল শীতকালে বরফের রাস্তা (আইস রোড) দিয়ে এবং গ্রীষ্মে ফ্লোটপ্লেনের মাধ্যমে। খনিটি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের বাইরে পরিচালিত হয়। এমন একটি প্রত্যন্ত ও কঠিন পরিবেশ থেকে এত উচ্চমানের হীরা পাওয়া ঘটনাটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।

দুই বিলিয়ন বছরের পুরোনো প্রাকৃতিক বিস্ময়

রিও টিন্টোর তথ্য অনুযায়ী, এই হীরা প্রায় ২ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর গভীরে তৈরি হয়েছিল। এতে থাকা নাইট্রোজেন পরমাণুর কারণে এর রং হলুদ হয়েছে, যা এটিকে অত্যন্ত বিরল ও মূল্যবান করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন গঠন প্রক্রিয়া এখন পৃথিবীতে ঘটে না।

ডায়াভিক খনির অতি বিরল উৎপাদন

হীরাটি উদ্ধার করা হয়েছে ডায়াভিক খনি থেকে, যা ল্যাক দে গ্রাস হ্রদের একটি ছোট দ্বীপে অবস্থিত এবং আর্কটিক সার্কেলের প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে। এই খনিতে হলুদ হীরা খুবই বিরল—মোট উৎপাদনের ১ শতাংশেরও কম।

এটি ডায়াভিক থেকে পাওয়া মাত্র পঞ্চম ১০০ ক্যারেটের বেশি ওজনের হলুদ হীরা।

আগের বড় আবিষ্কারের তালিকায়

ডায়াভিক খনিতেই এর আগে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হীরা পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালে এখানে ৫৫২.৭৪ ক্যারেটের একটি বিশাল হলুদ হীরা পাওয়া যায়, যা উত্তর আমেরিকায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হীরা হিসেবে বিবেচিত। ২০১৫ সালে পাওয়া ১৮৭.৭ ক্যারেটের “ফক্সফায়ার” হীরাটিও উল্লেখযোগ্য।

শেষ পর্যায়ে খনির কার্যক্রম

ডায়াভিক খনি ২০২৬ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে ২০২৪ সালে নতুন একটি পাইপলাইন থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ায় শেষ সময়ে আবার কিছু হীরা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এই ১৫৮ ক্যারেটের হীরাটিই ছিল খনিটির শেষ বড় আবিষ্কারগুলোর একটি।

মূল্য

হীরাটির সঠিক বাজারমূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাটার পর এর ওজন অর্ধেকেরও বেশি কমে যেতে পারে, তবে এর মান ও সৌন্দর্য অত্যন্ত উচ্চ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রিও টিন্টো জানিয়েছে, হীরাটির কাটিং ও বিক্রির প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি এবং ভবিষ্যতে এর চূড়ান্ত গন্তব্য নির্ধারিত হবে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি গ্যালাক্সি

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...