যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই-এর অভিযানের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংস্থাটির অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
প্রথম ঘটনায়, ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো টেক্সাসের হিউস্টনে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তার ভাই ও আরও দুই যাত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিবাসন কর্মকর্তারা তার গাড়িকে অনুসরণ করে থামান এবং যাত্রীর পাশের খোলা জানালা দিয়ে গুলি চালালে তিনি নিহত হন।
এর ছয় দিন পর, মেইন অঙ্গরাজ্যের বিডেফোর্ডে ২৬ বছর বয়সী জোয়ান সেবাস্তিয়ান দুরান গেরেরো নিজের এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় একটি মোড়ে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে থামান। পরিবারের পরিচিত একটি লন্ড্রোম্যাটের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এই দুই ঘটনার পর হিউস্টন ও বিডেফোর্ডে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণগ্রেপ্তার ও গণনির্বাসন নীতির অংশ হিসেবে আইসিই কর্মকর্তারা সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সহিংসভাবে অভিবাসীদের আটক করছেন।
দ্য ট্রেস-এর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইসিই কর্মকর্তারা ৩০টি গুলির ঘটনা ঘটিয়েছেন। এসব ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মিনেসোটায় পরিচালিত একটি অভিযানে নিহত দুই মার্কিন নাগরিক রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটিও রয়েছেন।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে ফ্লোরিডায় আইসিই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় ট্রাকের ধাক্কায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরে আইসিই হেফাজতে, অভিবাসন আটককেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, সর্বশেষ দুই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের কেউই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না।
মেক্সিকো থেকে আসা লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করছিলেন। তিনি স্ত্রী এবং তিনজন মার্কিন নাগরিক সন্তানের জনক ছিলেন।
অন্যদিকে, কলম্বিয়ার নাগরিক জোয়ান সেবাস্তিয়ান দুরান গেরেরো স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী কন্যার ভরণপোষণের জন্য একাধিক চাকরি করতেন।
সালগাদো আরাউহোর বড় ছেলে রোনালদো জানান, তিনি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া গুলির ঘটনার ভিডিও দেখে বাবার সাহায্যের আর্তনাদ শুনেই তাকে শনাক্ত করেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুরান গেরেরো নিহত হওয়ার পর তার সঙ্গী ও তিন বছর বয়সী মেয়ে বাড়ি থেকে ছুটে বেরিয়ে আসেন। শিশুটি তখন তার ব্লুই নকশার পায়জামা পরা ছিল এবং পরিবারের কান্নায় পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


