ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ডের সব সদস্যকে বরখাস্ত করল ট্রাম্প প্রশাসন

আমার দেশ অনলাইন

ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ডের সব সদস্যকে বরখাস্ত করল ট্রাম্প প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি বিজ্ঞান সংস্থার নীতিনির্ধারণী ন্যাশনাল সায়েন্স বোর্ডের (এনএসবি) সব সদস্যকে (২২ জন) একযোগে বরখাস্ত করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সাবেক এক বোর্ড সদস্য ও আইনপ্রণেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই বোর্ড দেশটির ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের (এনএসএফ) নীতি ও পরামর্শদাতা শাখা হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল সরকার পুনর্গঠনের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে শিক্ষা বিভাগ ও ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টসহ (ইউএসএআইডি) একাধিক সংস্থায় বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বোর্ডের সাবেক সদস্য ও সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত জীববিজ্ঞান অধ্যাপক ড. বিচি জানান, বরখাস্তের ইমেইলটি ছিল সংক্ষিপ্ত এবং তাতে শুধু ‘আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ’ বলা হয়। তিনি ধারণা করছেন, প্রশাসন নতুন বোর্ড নিয়োগ দেবে, তবে ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

তার মতে, বোর্ডটি দলীয় হবে নাকি স্বাধীন থাকবে এবং সংস্থার সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে তা এনএসএফের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের বিজ্ঞান কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জো লফগ্রেন এক বিবৃতিতে বলেন, এটি এমন এক প্রেসিডেন্টের আরেকটি অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ, যিনি বিজ্ঞান ও আমেরিকার উদ্ভাবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নতুন বোর্ডে ট্রাম্পপন্থি ব্যক্তিদের বসানো হতে পারে, যারা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও এনএসএফ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। যদিও ট্রাম্প নিজেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, এর আগে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির (ডিওজিই)’ মাধ্যমে এনএসএফে বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁট করা হয়।

গত বছরের ব্যয় সংকোচন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ১ হাজার ৬০০–এর বেশি গবেষণা অনুদান বাতিল বা স্থগিত করা হয়।

১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসএফ ২০২৫ সালে বিজ্ঞান গবেষণা ও শিক্ষায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা অর্থায়নকারী সংস্থায় পরিণত করেছে।

ড. বিচি বলেন, এই বরখাস্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে অতীতে এনএসএফের প্রতি উভয় দলের সমর্থন ছিল উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতেও যদি সেই সমর্থন বজায় থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকার বিষয়ে আশাবাদী হওয়া যায়।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...