ভারতের বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে ৩১ বছরের বিজেপি আধিপত্য ভেঙে জয়ের পথে রয়েছেন জন সুরাজ পার্টির (জেএসপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে তিনি বিজেপি প্রার্থীকে প্রায় ১৫ হাজার ৮৬৪ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ফলে বাঁকিপুর বিজেপির দীর্ঘদিনের দখল শেষ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় গত এপ্রিলে বাঁকিপুর আসনটি শূন্য হয়। এরপরই এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিতিন নবীন ৫১ হাজার ৯৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি ২০১০ সাল থেকে টানা এই আসনের প্রতিনিধি ছিলেন। এর আগে তার বাবা প্রয়াত নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহাও ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পাটনা পশ্চিম আসনের বিধায়ক ছিলেন। ২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর পাটনা পশ্চিমের পরিবর্তে বাঁকিপুর আসন গঠিত হলে সেটিও ধরে রাখে বিজেপি।
জয়ের আভাস পাওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক জোট করব না। আমাদের জোট হবে বিহারের সাধারণ মানুষের সঙ্গে। বাঁকিপুরের মানুষ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু সাধারণ ভোটারদের নয়, যারা জন সুরাজের সদস্য না হয়েও আমাদের সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। এমন মানুষ বিজেপি, আরজেডি ও কংগ্রেস—সব দলেই ছিলেন।’
‘কুকুর-বিড়াল দাঁড় করালেও জিতবে’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক
নির্বাচন চলাকালে বিজেপি নেতাদের আত্মবিশ্বাস নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়। প্রচারণার সময় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের নামে এমন একটি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে যে, বাঁকিপুরে বিজেপির টিকিটে কুকুর বা বিড়ালকে দাঁড় করালেও সে জিতবে।’যদিও পরে তিনি এমন মন্তব্য করার কথা অস্বীকার করেন।
এদিকে ভোট গণনা চলাকালেই পাটনায় বিজেপি কর্মীদের বিজয় উদ্যাপনের জন্য লাড্ডু প্রস্তুতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ফলাফলে প্রশান্ত কিশোর এগিয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে হাস্যরস শুরু হয়।
একজন মন্তব্য করেন, ‘এই লাড্ডুগুলো প্রশান্ত কিশোরের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিন।’
আরেকজন লেখেন, ‘নির্বাচনের আগে বিজয়ের আশায় বানানো লাড্ডু যদি প্রার্থী হেরে যান, তাহলে সেগুলোর কী হয়? বিতরণ করা হয়, দান করা হয়, নাকি নষ্ট হয়ে যায়?’
সূত্র: দ্য হিন্দু
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


