সিরিয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ সামরিক ঘাঁটি থেকে অবশিষ্ট সেনা ইউনিট প্রত্যাহার করে নিয়েছে আমেরিকা। এর পরপরই ইরাক ও জর্ডান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সিরিয়ার সেনাবাহিনী। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘ইচ্ছাকৃত ও শর্তসাপেক্ষে’ ঘাঁটিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ার আরব সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো ‘সিরীয় ও আমেরিকান পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে’ আল-তানফের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বর্তমানে ঘাঁটি এবং এর আশপাশের এলাকা সুরক্ষিত করেছে।
মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, সিরীয়-ইরাকি-জর্ডান সীমান্তের কাছে সামরিক ইউনিটগুলো মোতায়েন শুরু করা হয়েছে এবং আগামী দিনে সীমান্তরক্ষীদেরও মোতায়েন করা হবে।
আমেরিকার কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে তাদের সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, ‘সুশৃঙ্খলভাবে সেনাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা শর্তের অংশ ছিল। বিবৃতিতে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের পুনরুত্থান রোধে অংশীদারদের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলে উদ্ভূত যেকোনো ‘আইএসআইএল’ হুমকির জবাব দিতে তাদের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। আমেরিকা রক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আইএসআইএলের ওপর চাপ বজায় রাখা অপরিহার্য বলেও জানান তিনি।
আল-তানফ ঘাঁটিতে অবস্থানরত আমেরিকার সেনারা মূলত সম্মিলিত টাস্কফোর্স-অপারেশন ইনহেরেন্ট রেজলভের অংশ হিসেবে আইএসআইএস-বিরোধী কার্যক্রম চালিয়েছে। পেন্টাগন ২০২৫ সালের এপ্রিলে ঘোষণা করেছিল, ২০১৯ সাল থেকে সিরিয়ায় মোতায়েন করা সেনা তারা প্রত্যাহার করে নেবে। সে ঘোষণার বাস্তবায়ন করেছে তারা। আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়তে ২০১৯ সালে এ অঞ্চলে আমেরিকার সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।
মূলত ২০১৪ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় আইএসআইএলের (আইএসআইএস) বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জোটের অভিযানে অংশ নিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের সাবেক নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গত নভেম্বরে আইএসআইএল-বিরোধী জোটে যোগ দেন। এর কয়েক মাস পরই সিরিয়ার ঘাঁটি থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার করা হলো। একসময় শারাকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ বলে মনে করত আমেরিকা, যার মাথার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। এখন সেই শারা সরকারকে সিরিয়ার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি আমেরিকা। অবশ্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
সিএনএন জানিয়েছে, সিরিয়ার বর্তমান সামরিক বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিভিন্ন গ্রুপ থেকে আসা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, তারা সিরিয়ার নতুন নেতা হিসেবে আল-শারাকে সমর্থন করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

