আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মাছ ধরা বন্ধ করায় প্রাণ ফিরেছে চীনের ইয়াংসি নদীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছ ধরা বন্ধ করায় প্রাণ ফিরেছে চীনের ইয়াংসি নদীর
ছবি: সংগৃহীত।

চীনের ইয়াংসি নদী দূষণের মুখে পড়েছে প্রায় ৭০ বছর আগে। মাছ ধরাসহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে পড়েছিল নদীটি। তবে মাছ ধরা নিষেধ করায় প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে নদীটির।

বিজ্ঞাপন

এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দেশটির সরকার ‘বিবর্তনীয় তত্ত্ব’ ব্যবহার করেছে, যা এ নিষেধাজ্ঞা আরো কার্যকর করতে সহায়ক হয়েছে। সরকারের এই ব্যবস্থায় ওই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহকারী জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

একজন প্রবীণ জীববিজ্ঞানী চীন সরকারের এই পদক্ষেপকে মিঠাপানি সংরক্ষণে ২০ বছরের মধ্যে নেওয়া সবচেয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ নিয়ে ফ্রান্সের তুলুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবাস্তিয়ান ব্রোস বলেছেন, এটি সত্যিই একটি ভালো পদক্ষেপ। কারণ এটি শুধু কাজই করেনি, বরং নদীর পানির পরিশোধনও হয়েছে।

ব্রোসসহ এই গবেষণা দলের অংশগ্রহণকারীরা বিশাল জলপথের পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করেছিলেন, যা ৪০০ মিলিয়ন মানুষ এবং বিশ্বের অনেক বৃহত্তম কারখানার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার পর দলটি দেখেছে, নদীতে মাছের জৈববস্তু দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে এবং বেশ কয়েকটি বিপন্ন প্রজাতি ফিরে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সায়েন্স জার্নালে প্রকাশ হওয়া এ ফলাফলে একটি অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের আশা তৈরি হয়।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নদী এটি, যা তিব্বত মালভূমির হিমবাহ থেকে সাংহাইয়ের কাছে এর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শতাব্দীর শুরুতে বাইজির বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে মর্মান্তিক বিলুপ্তির ঘটনাগুলো ঘটে, যার মধ্যে ছিল মিঠা পানির ডলফিনের সংখ্যা হ্রাস। দূষণ, বাঁধ, যানজট এবং বিদ্যুৎ ও ডিনামাইট ব্যবহার করে বেপরোয়া মাছ ধরার ফলে মাছের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যায় এই প্রাণীটিও।

এ অবস্থায় চীনা বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াংসিতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। যাতে মাছের আবাসস্থলের অবক্ষয় বন্ধ করা যায় এবং মাছের মজুতের আরো বাড়ানো যায়। কারণ পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে মাছের প্রজনন ৮৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধগুলো ২০২১ সাল পর্যন্ত খুব একটা মানা হয়নি। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ১০ বছরের জন্য এই নদীতে মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

সরকার প্রায় দুই লাখ জেলেকে ক্ষতিপূরণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থান খুঁজে বের করতে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ফলে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয় এক লাখ জেলে। গবেষণার তথ্যে উঠে এসেছে, যে আগের দুই বছর অর্থাৎ ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের তুলনা করলে দেখা যায় সামগ্রিক জৈববস্তুপুঞ্জের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে, সেই সঙ্গে জীব বৈচিত্র্যের সংখ্যা বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন