লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউএনআইএফআইএলের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সব সদস্য লেবাননের অনুরোধকে সমর্থন করছে।
ইউএনআইএফআইএলের বর্তমান ম্যান্ডেটের মেয়াদ চলতি বছরের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা। দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের এই অন্তর্বর্তী শান্তিরক্ষী বাহিনী মূলত ইসরাইল সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করে।
তবে মিশনটির মেয়াদ বাড়ানোর বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে ইউএনআইএফআইএল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে প্রায় পুরো নিরাপত্তা পরিষদ
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লেবাননের অনুরোধের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। অন্য সদস্যরা ইউএনআইএফআইএলের ম্যান্ডেট বাড়ানোর পক্ষে।
ইউএনআইএফআইএল মূলত দক্ষিণ লেবাননে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ইসরাইলের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
২০২৬ সালের শেষে মিশন বন্ধের সিদ্ধান্ত
২০২৫ সালের আগস্টে নিরাপত্তা পরিষদ ইউএনআইএফআইএলের কার্যক্রম ধাপে ধাপে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময় ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ শান্তিরক্ষা মিশনটি গুটিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেওয়া হয়।
কিন্তু এরপর লেবাননের পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউএনআইএফআইএলের ম্যান্ডেট বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে লেবানন। দেশটির এই অনুরোধকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য সমর্থন করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিশনটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে ইউএনআইএফআইএল ব্যর্থ হয়েছে।
ফলে ইউএনআইএফআইএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে এখন যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর চলমান সংঘাত মিশনটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ককে আরো জোরালো করেছে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-b438d9.png)