যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ বারের বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট

আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ বারের বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ সংযোগ ১ কোটি ৩৪ লাখ বার এবং গ্যাস সংযোগ ১৭ লাখ বার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নতুন এক ফেডারেল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। যা দেশটির পরিবারগুলোর আর্থিক সংকটের গভীরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিল পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ইউটিলিটি কোম্পানিগুলো সাধারণত সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

কংগ্রেস এই তথ্য সংগ্রহের জন্য ২০২৩ সালের একটি আইন পাস করার আগে পর্যন্ত, বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো কতবার গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে তা জানার কোনো উপায় ছিল না, যার ফলে পরিবারগুলো তাপ, আলো বা রেফ্রিজারেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।

সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির গবেষক জিন সু বলেন, ‘আমাদের আগের তথ্য থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার যে হার আমরা জানতাম, তার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি ভয়াবহ।’

এর আগে যেসব রাজ্যগুলোর তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যেত তার ওপর ভিত্তি করে সু ২০২৪ সালে মোট ৯০ লাখ বিদ্যুৎ সংযোগ বিভ্রাটের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান বিভ্রাট ১৩ মিলিয়নের তুলনায় সংখ্যাটি অনেক কম।

এই নতুন তথ্যটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ট্রাম্প প্রশাসন ষষ্ঠবারের মতো ৪ বিলিয়ন ডলারের এলআইএইচইএপি কর্মসূচিটি বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই কর্মসূচিটি স্বল্প আয়ের আমেরিকানদের বিদ্যুৎ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বিল পরিশোধে সহায়তা করে।

প্রশাসন তাদের যুক্তি হলো, বাড়ি গরম ও ঠান্ডা করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি থেকেই মানুষ ইতিমধ্যেই ভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থা পাচ্ছে।

এর আগে কংগ্রেস এই জনপ্রিয় কর্মসূচিটি বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে সংযোগ বিচ্ছিন্নের হার সবচেয়ে বেশি। ওকলাহোমায় প্রতি ১০ জন গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৩ জনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সর্বোচ্চ হারের দিক থেকে এর পরেই রয়েছে টেক্সাস, ফ্লোরিডা, অ্যালাবামা, লুইজিয়ানা, টেনেসি, মিসিসিপি এবং আরকানসাস।

এই রাজ্যগুলোর বেশিরভাগই কোম্পানিগুলোকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য করে না, যার ফলে এই বিপুল সংখ্যাটি কিছু বিশেষজ্ঞের কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয়েছে।

সু বলেন, ‘ঐ রাজ্যগুলোতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হার বিশেষভাবে ভয়াবহ, যা দেশের বাকি অংশের চেয়ে অনেক খারাপ।’

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই অঞ্চলটিতে বেশ কিছু ঝুঁকির রয়েছে যা সম্মিলিত এর ওপর প্রভাবে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা এর কারণ হিসেবে উলে্লখ করেন—উচ্চ দারিদ্র্যের হার ও স্বল্প আয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দামের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এছাড়া গরম ও গ্রীষ্মকালের দীর্ঘসূত্রিতা যার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপক ব্যবহার প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে ভোক্তাদের সুরক্ষার জন্য স্বল্প ব্যবস্থা, যা কোম্পানিগুলোকে বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত রাখে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এই তথ্যে অন্তর্ভুক্ত সময়কালের পর থেকে জ্বালানির দাম আরো বেড়েছে। ২০২৫ সালে বিদ্যুতের দাম সারাদেশে ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১১টি রাজ্যের ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর ওপর ওয়াশিংটন পোস্টের করা একটি পূর্ববর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সেগুলোর মধ্যে অন্তত আটটিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

ন্যাশনাল কনজ্যুমার ল সেন্টারের বিশ্লেষক জন হাওয়াট বলেন, ‘২০২৪ সালের এই সংখ্যাগুলো যদি খারাপ মনে হয়, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’

প্রতিবেদন আরো জানায়, ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ‘চূড়ান্ত নোটিশ’ পাঠানো হয়েছে, যা বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্নের সতর্কতা দেয়। প্রাকৃতিক গ্যাস গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও এমন নোটিশ পাঠানো হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ বার।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, কোম্পানির মুনাফা সীমিত করা এবং সংযোগ বিচ্ছিন্নের নিয়ম কঠোর করার দাবি জানিয়েছে।

ডেট্রয়েটের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী নাদিয়া হাসান জানান, তার বিদ্যুৎ অন্তত তিনবার এক সপ্তাহের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে সবকিছু থেমে যায়—অনলাইন পড়াশোনা, কাজ, এমনকি খাবার সংরক্ষণও সম্ভব হয় না।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন