আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কিউবার ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের’ নেতৃত্বের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

আমার দেশ অনলাইন

কিউবার ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের’ নেতৃত্বের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কিউবার নেতৃত্বের সঙ্গে ওয়াশিংটন একটি চুক্তি করার লক্ষ্যে আলোচনা করছে। কিউবার দুর্বল অর্থনীতির ওপর কার্যত তেল অবরোধের হুমকি দেওয়ার কয়েক দিন পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মার-আ-লাগো বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, “কিউবা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। বহুদিন ধরেই এমন ছিল, এখন তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য ভেনেজুয়েলাও নেই। তাই আমরা কিউবার সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলছি, দেখি কী হয়। আমার মনে হয় আমরা কিউবার সঙ্গে একটি চুক্তি করতে যাচ্ছি।” তবে চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

মার্চের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের প্রশাসন দক্ষিণ ফ্লোরিডার উপকূলবর্তী কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। মাদুরোর ভেনেজুয়েলা ছিল হাভানার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং কিউবার জন্য তেল আমদানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়। এর পরদিন হাভানার পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কিউবানদের দেখা যায়।

২০২৪ সাল থেকে কিউবায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মাইক হ্যামার জানান, মধ্য কিউবার ত্রিনিদাদ প্রদেশ সফরে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা তাকে গালাগালি দিয়েছে। হ্যামারের মতে, তারা কিউবার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার বিষয়ক ব্যুরো জানায়, “অবৈধ কিউবান শাসনব্যবস্থাকে অবিলম্বে তাদের দমনমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। আমাদের কূটনীতিকরা কিউবার জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ অব্যাহত রাখবেন।”

ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, যিনি মায়ামিতে জন্ম নেওয়া নির্বাসিত কিউবান সন্তান, হাভানায় শাসন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। মাদুরোর পতনের পর ট্রাম্প কিউবাকে সতর্ক করে বলেন, “দ্রুত একটি চুক্তি করো, নতুবা অজ্ঞাত পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

অন্যদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, তার প্রশাসন কিউবায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, কিউবায় তেল পাঠানো অব্যাহত রাখার জন্য কূটনৈতিক সমাধানেও কাজ করছে মেক্সিকো।

কিউবা সরকার ট্রাম্পের ওপর দ্বীপদেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে এবং পেট্রলপাম্পে লাইনের দৈর্ঘ্য ক্রমশ বাড়ছে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...