৬৪ অলআউটের ধরন-ধারণ

৬৪ অলআউটের ধরন-ধারণ

বাংলাদেশের ১০ উইকেটের মধ্যে স্টার্ক একাই নিয়েছেন ৬টি, কামিন্স ৩টি। বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল গল্প তাই স্টার্কের নিখুঁত লাইন-লেংথ, আর তার সঙ্গে ব্যাটারদের বারবার ভুল শটের মিশ্রণ। দেখে আসি কোন ভুলে কী কায়দায় বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ৬৪ রানে

বিজ্ঞাপন

সাদমান ইসলাম - ০

০.১ ওভার | গালিতে ক্যাচ। বোলার : স্টার্ক

প্রথম বলেই স্টার্কের আঘাত। মিডল স্টাম্পে পিচ করে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলটি সাদমান মিডউইকেট দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন। বলের লাইনে ঠিকমতো আসতে না পেরে ব্যাটের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকেই বল ব্যাটের কিনারায় লাগে। উড়ে যায় গালিতে, যেখানে ক্যামেরন গ্রিন বুকের কাছের বল তালুতে নিলেন। ম্যাচের প্রথম বলেই বাংলাদেশের উইকেট হারাল।

তানজিদ হাসান - ০

২.১ ওভার | ক্যাচ, তৃতীয় স্লিপ | বোলার : স্টার্ক

স্টার্কের প্রায় ওয়াইড ইয়র্কার লেংথের বল। বাইরে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে তানজিদ ব্যাট নামিয়েছিলেন দেরিতে। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় তৃতীয় স্লিপে। শুরুতে বাম্প ক্যাচের সন্দেহ তৈরি হলেও রিপ্লেতে পরিষ্কার হয়, বল মাটিতে পড়ার আগেই ধরা হয়েছে। ডারউইনে সেঞ্চুরি করা তানজিদ ম্যাকাইয়ে ফিরলেন শূন্য রানে। ডারউইনের দ্বিতীয় ইনিংসেও শূন্য রান করেছিলেন তানজিদ।

নাজমুল হোসেন শান্ত - ০

২.২ ওভার | এলবিডব্লিউ | বোলার : স্টার্ক

তানজিদের পরের বলেই শান্তকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেললেন স্টার্ক। ফুল লেংথের বলটি সিমে পড়ে সামান্য ভেতরে ঢোকে। ক্রিজে আটকে গিয়ে বলের লাইনে ব্যাট আনতে পারেননি শান্ত। বল আঘাত করে সামনের প্যাডে। আম্পায়ার আঙুল তুলতেই রিভিউ নেন অধিনায়ক। কিন্তু বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বল লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। শেষ পর্যন্ত আম্পায়ার্স কল, শান্তও শূন্য রানে বিদায়।

মুমিনুল হক - ৯

৪.৫ ওভার | ক্যাচ, গালি | বোলার : স্টার্ক

তানজিদের মতোই প্রায় ওয়াইড ইয়র্কার লেংথের বল। বাইরে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে মুমিনুল ব্যাট নামিয়ে ঠেকাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটের মোটা কানায় লেগে বল নিচু হয়ে ছুটে যায় গালির দিকে। ক্যামেরন গ্রিন ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি মুঠোয় নেন। বাম্প ক্যাচ কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হয়। রিপ্লেতে নিশ্চিত হওয়া যায়, বল মাটিতে লাগেনি। ৯ রানে মুমিনুলের বিদায়, স্টার্কের চতুর্থ।

লিটন দাস - ০

৬.৪ ওভার | এলবিডব্লিউ | বোলার : স্টার্ক

লিটনের জন্যও স্টার্কের পরিকল্পনা ছিল সোজা। ফুল লেংথে লেগ স্টাম্পের দিকে ঢুকে আসা বল। ক্রিজে আটকে থেকে স্কয়ার লেগের দিকে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু ব্যাটে বল লাগেনি। সরাসরি আঘাত করে প্যাডে। মাঠের আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। অস্ট্রেলিয়া রিভিউ নেয়। বল ট্র্যাকিংয়ে তিনটি লাল সংকেত, অর্থাৎ বল সরাসরি লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। লিটন শূন্যতে, স্টার্কের পাঁচ উইকেট।

মুশফিকুর রহিম - ৫

১৫.৩ ওভার | বোল্ড | বোলার : কামিন্স

দীর্ঘক্ষণ প্রতিরোধের পর মুশফিকের ডিফেন্স ভাঙলেন কামিন্স। অফ স্টাম্পের চ্যানেলে দারুণ সিম-আপ ডেলিভারি। পিচ করার পর সামান্য ভেতরে ঢুকে যায় বল। ফ্রন্ট ফুটে খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাডের মাঝে সামান্য ফাঁক তৈরি করেছিলেন মুশফিক। সেই ফাঁক দিয়েই বল সোজা গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার ফিরলেন ৫ রানে।

মেহেদি হাসান মিরাজ - ১১

২৪.৩ ওভার | ক্যাচ, তৃতীয় স্লিপ | বোলার : কামিন্স

ফুল লেংথের বল, অফ স্টাম্পের বাইরে পঞ্চম স্টাম্প লাইনে। কোনো সিম মুভমেন্টও ছিল না। কিন্তু প্রলুব্ধকর বল দেখে মিরাজ উঠে গিয়ে ড্রাইভ খেলতে চাইলেন। বল মাটিতে নামার আগেই খেলতে গিয়ে ব্যাটের মোটা কানায় লাগে। নিচু হয়ে তৃতীয় স্লিপে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন বো ওয়েবস্টার। ১১ রানে মিরাজের বিদায়।

হাসান মাহমুদ -১০

২৫.৫ ওভার | ক্যাচ, লেগ স্লিপ | বোলার : হ্যাজেলউড

হাসান মাহমুদের জন্য হ্যাজেলউডের পরিকল্পনাটা ছিল একেবারেই স্পষ্ট। হিপ বরাবর ব্যাক-অফ-লেংথ বল। হাসান সেটিকে লেগ গ্ল্যান্স করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল সরাসরি গিয়ে পড়ে নাথান লায়নের হাতে, লেগ স্লিপে। কোমরসমান উচ্চতায় আসা বলটি লায়ন সহজেই লুফে নেন। ১০ রানে ফিরলেন হাসান। স্টার্কের ষষ্ঠ উইকেট।

তাসকিন আহমেদ - ১

২৮.১ ওভার | ক্যাচ, স্কয়ার লেগ | বোলার : কামিন্স

তাসকিনকে বাউন্সার দিয়ে আটকে রাখার পরিকল্পনা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই ওভারে তৃতীয়বারের মতো শর্ট বল। আগের দুবারের মতো এবারও তাসকিন পিছিয়ে গিয়ে পুল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যাটের মাঝখানে বল লাগেনি। আকাশে অনেক উঁচুতে উঠে যায় বল। স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যাট রেনশ নিরাপদেই ক্যাচটি নেন। বাংলাদেশ তখন ৯/৩৯।

শরিফুল ইসলাম - ১৪

৩৩.৬ ওভার | ক্যাচ, উইকেটকিপার | বোলার : স্টার্ক

বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করা শরিফুলকেও ফিরিয়ে দিলেন স্টার্ক। অফ স্টাম্পের বাইরে চতুর্থ স্টাম্প লাইনে ভালো লেংথের বল। বাড়তি বাউন্স পেয়ে যায় ডেলিভারিটি। শরিফুল ব্যাট সরিয়ে নেওয়ার বদলে পিছিয়ে গিয়ে কাট করার চেষ্টা করেন। ব্যাটের কানায় লেগে বল উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেরির গ্লাভসে।

৩৪ ওভারে ৬৪ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন