চট্টগ্রামের রাউজানে মোহাম্মদ করিম (৩৬) নামের এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাইন এমএম পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদের’ সহযোগী হিসেবে পরিচিত রায়হান আলম এই ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটিতে তাকে পরপর তিনটি গুলি ছুড়তে দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় গুলিতে নিহত হন করিম। এর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর রায়হানের ফেসবুক স্টোরিতে গুলি ছোড়ার ওই ভিডিওটি দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, রায়হান একটি নাইন এমএম পিস্তল হাতে নিয়ে গুলি ছুড়ছেন। পরপর তিনটি গুলি ছোড়ার পর ভিডিওটি শেষ হয়ে যায়। ভিডিওটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
করিমকে কেরানিহাটসংলগ্ন সড়কে গুলি করা হয়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা তাঁর বুকে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সড়কের পাশে পড়ে ছিলেন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত করিম উরকিরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শফির ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
হত্যার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
করিমকে হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে ঘটনাটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে করিমকে গুলি করা হয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আনিসুর রহমান বলেন, উরকিরচরের কেরানিহাট এলাকায় একজনকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহত ব্যক্তির লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, নিহত করিমের বিরুদ্ধে ছয় থেকে সাতটি মামলা রয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে আছেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
করিম হত্যার পর রায়হানের ফেসবুক স্টোরিতে প্রকাশিত অস্ত্রের ভিডিওটি নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি প্রকাশ করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
রায়হানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকটি হত্যা মামলায়ও তাঁর নাম এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে তাঁকে রাউজানের অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে বিচারাধীন।
জেলা পুলিশের এসপি মাসুদ আলম জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। রাউজান কেন্দ্রিক সন্ত্রাসী-গ্রুপগুলোর বিষয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

