যশোরে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন করল ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ছেলে

যশোরে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন করল ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ছেলে

‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ছেলে মামুনুর রশিদ মামুনের (৪৫) বিরুদ্ধে তার মা আনোয়ারা বেগমের (৫৮) গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদরের বাজে দুর্গাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মামুন বটি দিয়ে তার মায়ের মাথা ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বিজ্ঞাপন

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মামুন খান বলেন, মামুনের দুই স্ত্রী পর পর পারিবারিক কলহের কারণে তাকে ত্যাগ করেছেন। ওইসব ঘটনায় তার মায়ের প্রতি ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মামুন বাজে দুর্গাপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। পুলিশ তাকে এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, মামুনের আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। ৮/৯ বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেন। বনিবনা না হওয়ায় মিথিলাকে তালাক দেন মামুন। এরপর বিয়ে করেন ঝিকরগাছা উপজেলার অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে। বছর ছয়েক আগে রিনাও তালাক দিয়ে চলে যান। উভয় স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মামুন তার মাকে স্ত্রীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য দায়ী মনে করতেন। এ নিয়ে এর আগেও মায়ের সঙ্গে বিরোধ ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।

পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তিনি বাড়িতে ফেরেন। বিকেলে বাড়িতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে তার মাকে মাটিতে ফেলে গলায় আঘাত করেন। এতে আনোয়ারার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে মামুন বটি ফেলে পালিয়ে যান।

কোতোয়ালি থানার ওসি জানিয়েছেন, ঘটনা শুনে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আর অভিযুক্তকে আটকে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন