যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক উপস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর মোতায়েন দেখে ইরান ভীত নয়। রোববার তেহরানে এক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও দেশটি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে এসেছে, ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পরোক্ষ বৈঠকের দুই দিন পর এমন বক্তব্য দিয়েছেন আরাঘচি। ওমানে র ওই বৈঠকের পর উইটকফ অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পরিদর্শন করেন, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে মোতায়েন রয়েছে।
তবে মার্কিন নৌ উপস্থিতিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন আরাঘচি। তিনি বলেন, ‘অঞ্চলে তাদের সামরিক মোতায়েন আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়, এটি কোনো দরকষাকষির হাতিয়ার নয়।
আরাঘচি জানান, দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো রক্ষায় প্রয়োজনে সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত তেহরান। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইরান ইতোমধ্যে বড় মূল্য দিয়েছে এবং এখন আর পিছু হটার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি জেসিপিওএ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালালে ১২ দিনের সংঘাত শুরু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” নামে অভিযানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


কঙ্গো থেকে শান্তিরক্ষী সেনা প্রত্যাহার করবে দক্ষিণ আফ্রিকা
পোল্যান্ডে শিশুদের সুরক্ষায় সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে তীব্র ঠান্ডা, সতর্কতায় প্রায় ৮ কোটি মানুষ