চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পাহাড়ে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের সম্ভাবনা দীর্ঘদিনের। প্রায় ছয় দশক আগে খনন করা তিনটি কূপ অজ্ঞাত কারণে সিসাঢালাই করে সিল করে দেওয়া হলেও বর্তমানে এসব কূপের বিভিন্ন লিকেজ ও পাহাড়ের ফাটল দিয়ে বুদবুদ করে গ্যাস বের হচ্ছে। এতে ওই এলাকায় ফের তেল-গ্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ‘অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’-এর মাধ্যমে বাঁশখালীর পাহাড়ে তিনটি কূপ খনন করে। বাঁশখালী পৌর সদর জলদী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে গহিন অরণ্যে জলদী রেঞ্জ ও লোহাগাড়া চুনতি রেঞ্জের মাঝামাঝি দো-চাইল্লা নামের পাহাড়ে এসব কূপ খনন করা হয়।
পরবর্তীতে কোরিয়া ও রাশিয়ার তেল-গ্যাস বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আরো পাঁচটি কূপ খনন করা হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। এর মধ্যে তিনটি কূপে বিশেষজ্ঞরা জরিপ চালান। জরিপে এসব কূপে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। ওই সময় বিশেষজ্ঞরা প্রায় ৩০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলও উত্তোলন করতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে।
জরিপ শেষে বিশেষজ্ঞ দল তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে সেই প্রতিবেদনের পরবর্তী কোনো কার্যকর পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং অজ্ঞাত কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা খনন করা কূপগুলো সিসাঢালাই করে সিল করে দেন বলে জানান স্থানীয় প্রবীণ মোশারফ আলী (৮৯)।
মোশারফ আলী বলেন, ‘আমি নিজের চোখে এসব ঘটনা দেখেছি। তখন আমি টগবগে যুবক। আমরা আশা করেছিলাম, এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন হবে এবং আমাদের এলাকার উন্নয়ন হবে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।’
বর্তমানে কূপগুলোর ঢালাই করা অংশের পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন ফাটল দিয়েও গ্যাস বের হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কূপের আশপাশে কোথাও কোথাও গ্যাসের বুদবুদ দেখা যায় বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, খনন করা কূপগুলোতে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই বা সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কূপগুলো সিল করে রাখার কারণে প্রকৃত মজুতের পরিমাণও অজানা রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বাঁশখালীর জলদী পাহাড়ে তিনটি কূপ খননের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ১৯৬০ সালের জরিপের পর থেকে ওই এলাকায় তেল-গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। কূপগুলো সিসা দিয়ে সিল করার কারণ সম্পর্কেও কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী বলেন, বাঁশখালীর পাহাড়ে তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এসব সম্পদ উত্তোলনের চেষ্টা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে গ্যাসের সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় বাঁশখালীর পাহাড়ে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানো হলে তেল-গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাই করা সম্ভব। সত্যিই যদি মজুতের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

