পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বৃলাহিড়ীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে পুকুরে ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আতঙ্কের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে শতবর্ষী বিদ্যালয়টির শিশু শিক্ষার্থীরা।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ১৯১৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টির বয়স ১১১ বছর। এর শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৬৫ জন এবং শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১০ জন। বিদ্যালয়ের দুটি একতলা ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ১৯৯৫ সালে পাশের একটি পুকুরের পাড় ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই ভবনের নিচের মাটি পুকুরে ধসে গিয়ে ফাঁকা হয়ে গেছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভবনটিতে ঝুঁকি নিয়ে শিশু, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান চলছে। ভবনটি যেকোনো সময় পুকুরে ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
এদিকে একাধিকবার ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে পানি জমে যায়।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন জানায়, ‘আমাদের স্কুলের ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ফাঁকা হয়ে গেছে। তাই আমাদের ক্লাস করতে খুব ভয় লাগে।’
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা পারভীন জানায়, ‘ক্লাসে ঢুকলে ভয় লাগে, কখন যেন ভবনটি পুকুরের মধ্যে পড়ে যায়।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. নাসিমা নাসরিন জানান, বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো ভবনটি সংস্কার, অপসারণ বা বিকল্প শ্রেণিকক্ষের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খ. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন আমার দেশকে বলেন, ‘বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুতই একটা ব্যবস্থা হবে।’
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

