ফিলিপাইনের প্রতিনিধি পরিষদ ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তেকে অভিশংসনের দিকে এগোচ্ছে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের কন্যা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার অভিশংসন নিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এটি দুতের্তে পরিবারের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আরেকটি বড় অধ্যায়, যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর করেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। খবর আল জাজিরার।
অভিযোগপত্রে সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন, জনআস্থার বিশ্বাসভঙ্গ, গোপন তহবিলের অপব্যবহার, সম্পদ গোপন রাখা, ঘুষ গ্রহণ এবং প্রেসিডেন্ট মার্কোস, তার স্ত্রী লিজা আরানেতা ও সাবেক স্পিকার মার্টিন রোমুয়ালদেজের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন সংস্থার নজরে আসা ১১ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
হাউস সদস্য টেরি রিডন বলেন, “এই লেনদেনগুলোর পরিমাণ বৈধ আয় বা ঘোষিত সম্পদের মাধ্যমে যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি সাংবিধানিক জবাবদিহির বিষয়।”
প্রতিনিধি পরিষদ চায় সিনেট সারা দুতের্তেকে চারটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করুক, তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করুক এবং ভবিষ্যতে সরকারি কোনো পদে থাকার জন্য তাকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণা করুক।
অভিশংসন সিনেটে পাঠাতে প্রতিনিধি পরিষদের এক-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন, যা ইতোমধ্যেই পূরণ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দরকার।
এর আগে ২০২৫ সালে একই ধরনের অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়েছিল, যেখানে ৩১৩ সদস্যের মধ্যে ২১৫ জন ভোট দিয়েছিলেন। তবে পরে ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্ট সেটি প্রযুক্তিগত কারণে বাতিল করে দেয়।
দুতার্তে ২০২২ সালের নির্বাচনে মার্কোসের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও পরে তাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গত ৭ মে সারা দুতার্তে বলেন, অভিশংসনের ফলাফল “ঈশ্বরের লিখিত নিয়তি” অনুযায়ী হবে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


