২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি আশানুরূপ ফল করতে না পারায় অনেকেই তার এক দশকের শাসনের সমাপ্তি দেখছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে ২০৩০ সালের পরেও ভারতের ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন তিনি।
গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয় এবং ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও কেরালায় ক্ষমতাসীনদের পরাজয় মোদিবিরোধীদের বড় ধাক্কা দিয়েছে।
ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে যে কৌশল মোদি নিয়েছেন, তা তাকে ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের নেতা হওয়ার পথে এগিয়ে দিচ্ছে।
ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘নির্বাচন আসতে তিন বছর বাকি থাকলেও বিজেপি এখন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ২০২৯ সালের নির্বাচনে তারা চতুর্থ মেয়াদের জন্য নিরঙ্কুশ ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে।’
ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে হিন্দু ভোট মোদির দলের পক্ষে ব্যাপকভাবে সংহত হয়েছে।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু মিত্তাল জানান, পশ্চিম, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের পর এখন তারা দক্ষিণ ভারতে শক্তি বৃদ্ধিতে মন দিচ্ছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ দেয়, যা মোট ভোটারের ১২ শতাংশ।
বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মূলত দরিদ্র ও মুসলিম ভোটারদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা নির্বাচনে বিজেপির জয়কে সহজ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালিয়ে মোদি ব্যক্তিগত ইমেজের বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মোদিবিরোধী শিবিরের অন্যতম ঐক্যবদ্ধকারী নেতা হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এবারের পরাজয়ে সেই সম্ভাবনা ম্লান হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাব মোদির পথকে আরো মসৃণ করছে।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সদস্য হান্নান মোল্লা বলেন, ‘বিরোধী দলগুলো এখনো ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। তারা সাধারণ কোনো বিষয়ে একমত হতে না পারলে অন্তত এক দশকের মধ্যে বিজেপি বা মোদিকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো কোনো শক্তিশালী পক্ষ আমি দেখছি না।’
বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে মোদি সরকারকে। তবে সাম্প্রতিক এই নির্বাচনী জয়গুলো তাকে সাহসী অর্থনৈতিক সংস্কার এবং ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’-এর মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে বাড়তি সাহস জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


