সাঘাটায় সড়কে ধস, যানবাহন চলাচল বন্ধের উপক্রম

সাঘাটায় সড়কে ধস, যানবাহন চলাচল বন্ধের উপক্রম
ছবি: আমার দেশ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ওয়াপদা সড়ক ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। কোনো মতে ছোট ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে এলাকার বাসিন্দারা। মাঝে মাঝে বালু দিয়ে কোনো রকমে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা টিকছে না।

জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলা থেকে জুমারবাড়ী, সোনাতলা হয়ে বগুড়ার মোকামতলায় মহাসড়কে সংযোগ স্থাপনের একমাত্র সড়কটির ডাকবাংলা হতে জুমারবাড়ী পর্যন্ত ওয়াপদা বাঁধের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাঁধটির ডাকবাংলা হতে জুমারবাড়ী বাজারের প্রবেশ পথ অসংখ্য স্থানে অতিরিক্ত বালু ব্যবহার, এক পাশে ব্যক্তিগত ভাবে চাষাবাদ করা, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও বাঁধের উপর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই ধসে যায়।

গত ৬ মাসে বাঁধজুড়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় আকারে ধসে গেছে। এতে করে  বড় ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রয়োজনের তাগিদে জনসাধারণ ভ্যান ও অটোতে কোনো মতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় কবলে পড়ছে প্রতিদিন।

এছাড়া সংস্কার কাজে অতিরিক্ত বালু ব্যবহার করার কারণে ডাকবাংলা পার হয়ে ঘুরিদহ অংশে, টেকনিক্যাল কলেজে এলাকা, জুটিয়ারপাড়া, বসন্তেরপাড়াসহ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় আকারে ধসে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়নের বাঁশহাটা উকুনপাগলীর মোড় হতে উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বসন্তের পাড়া পর্যন্ত এ বাঁধটি সংস্কার করে। এতে ব্যয় হয় ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের গোড়া কেটে গভীর করা এবং বাঁধের বারাম খোঁড়াখুঁড়ি ও অতিরিক্ত বালু ব্যবহার করার দরুন বর্তমানে এই অবস্থা দাঁড়িয়ে।

জুমারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, বাঁধের এ সড়কটির নির্মাণ কাজ দুর্বল হওয়ায় এখন মাঝে মাঝেই যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে ছোট যানবাহন চলতে গিয়ে কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে জানালেন, এলাকার বাসিন্দারা।

ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ঘুড়িদহের সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক সুমন মিয়া জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই পানির তোড়ে সড়কটির বালু ধসে যাচ্ছে। এতে করে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি ধসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা উপরে জানিয়েছি।

এলজিইডির সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরক্ত দায়িত্ব) হেলালুর রহমান বলেন, সড়কটি ধসের বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে অবগত করেছি। তার প্রেক্ষিতে পরিদর্শন ও মাপজোখ সম্পন্ন হয়েছে। স্থায়ীভাবেই সড়কটির সংস্কার হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন