বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষে গ্যালারির আবর্জনা পরিষ্কার করে বছরের পর বছর ধরে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন জাপানি ফুটবল সমর্থকেরা। তবে এবার নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারা।
চলতি সপ্তাহে ম্যাচ শেষে জাপানি দর্শকদের আবর্জনা পরিষ্কারের কিছু ছবি সামনে আসে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। দেশটির অনেক নারী একে দ্বিমুখী নীতি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যে পুরুষেরা ঘরের বাইরে নিজেদের আবর্জনা পরিষ্কার করছেন, তারাই ঘরের সব কাজের বোঝা স্ত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন।
ভাইরাল পোস্ট ও সমালোচনা
সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যা প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পছন্দ করেছেন। ওই পোস্টে দুটি ছবি পাশাপাশি বসানো হয়েছে। একপাশে দেখা যায়, এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামে আবর্জনা কুড়াচ্ছেন। অন্য পাশে দেখা যায়, সেই একই ব্যক্তি ঘরে সোফায় শুয়ে ফোন টিপছেন এবং পাশে কাপড়ের ঝুড়ি রাখা। আর তার স্ত্রী একাকী বাসন মাজছেন।
পোস্টটিতে লেখা রয়েছে, জাপানি পুরুষদের ঘরে আরো বেশি সাহায্য করা উচিত। কারণ গৃহস্থালির কাজে তাদের ব্যয় করা সময় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।
আমেরিকান লেখক পি জে ও’রোর্কের একটি উক্তি উল্লেখ করে একজন এক্স ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘সবাই পৃথিবী বাঁচাতে চায়, কিন্তু মাকে বাসন মাজতে কেউ সাহায্য করতে চায় না।’
অন্য একজন লিখেছেন, ‘স্টেডিয়ামে আবর্জনা কুড়ানো এই পুরুষদের অনেকেরই হয়তো ঘরে ছোট সন্তান আছে। তারা স্ত্রীকে একা ফেলে রেখে এখানে বিশ্বকাপ দেখতে এসেছেন।’
উপাত্তে বৈষম্যের চিত্র
পাবলিক প্লেস বা উন্মুক্ত স্থান পরিষ্কার রাখা জাপানি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। তবে ঘরের কাজের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানি পুরুষদের অবস্থান সবার নিচে।
২০২১ সালের ‘অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (ওইসিডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, জাপানি নারীরা দিনে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় ঘরের বিনা মজুরির কাজে ব্যয় করেন। এটি পুরুষদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। জাপানি পুরুষেরা দিনে মাত্র ৪৭ মিনিট ঘরের কাজ করেন।
তরুণ পরিবারগুলোর মধ্যে এই বৈষম্য আরো বেশি। ২০২১ সালের একটি সরকারি জরিপ অনুযায়ী, ৬ বছরের কম সন্তান রয়েছে এমন কর্মজীবী দম্পতিদের মধ্যে নারীরা দিনে ৭ ঘণ্টার বেশি সময় ঘরের কাজে কাটান। অন্যদিকে পুরুষেরা কাটান দুই ঘণ্টারও কম।
স্বার্থপরতা ও পক্ষাবলম্বন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এই দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, জাপানে বড় কোনো অনুষ্ঠান শেষে পাবলিক প্লেসে প্রচুর আবর্জনা পড়ে থাকে। অথচ দেশের বাইরে গিয়ে তারা পরিচ্ছন্নতার নাটক করছেন।
তবে এই বিতর্কের মাঝেও অনেকে জাপানি সমর্থকদের এই কাজের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এতে লজ্জার কী আছে? বিদেশে গিয়ে জাপানিরা আবর্জনা ফেলছে-এমন খবরের চেয়ে এটি অনেক ভালো।’
তাদের এই উদ্যোগ অন্য দেশের সমর্থকদেরও অনুপ্রাণিত করছে। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পর্তুগালের সমর্থকেরাও বড় প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে গ্যালারির আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা এই ভালো প্রবণতাটি শুরু করার জন্য জাপানিদেরই কৃতিত্ব দিচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


