ইউক্রেন, ইরান ও ইয়েমেনের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শীতের মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানির সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজতে আজ বৃহস্পতিবার লুক্সেমবার্গে বৈঠকে বসছেন জোটভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানিমন্ত্রীরা। বৈঠকে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে।
ইইউর পরিবহন, টেলিযোগাযোগ ও জ্বালানি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের তাৎক্ষণিক চাপের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা হবে।
ইউরোপে শীতকালে ঘরবাড়ি গরম রাখতে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যায়। এমন সময়েই জ্বালানির মজুত নিয়ে চাপের মুখে পড়েছে জোটটি। বর্তমানে ইউরোপের জ্বালানি মজুতের সক্ষমতার ৭৫ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে। গত বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৮৩ শতাংশ।
জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর উপায় খুঁজতে বুধবার ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইইউর পরিবহন কমিশন। উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে এসব আলোচনায় কথা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জ্বালানির মান নির্ধারণে থাকা কিছু কারিগরি শর্ত শিথিল করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
ইইউর জ্বালানিবিষয়ক কমিশনার ড্যান ইয়র্গেনসেন বুধবার বলেছেন, জোটটি ‘অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতির’ মুখে রয়েছে।
তার মতে, জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করার মতোই জরুরি বিষয় হলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এর দাম রাখা। কারণ, জ্বালানি পাওয়া গেলেও পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তা কিনতে না পারলে সরবরাহ নিশ্চিত করার সুফল পাওয়া যাবে না।
এদিকে, ইউরোপে পাইকারি পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। বুধবার প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে ১০০ ইউরো ছুঁয়েছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম দাম এ পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই সময় রাশিয়ার পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা গ্যাসের বড় অংশ হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল ইউরোপ।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপে গ্যাসের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বর্তমানে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের দামের তুলনায় গ্যাসের দাম প্রায় তিন গুণ। শীতের আগে এই মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

