আন্তর্জাতিক চোর চক্রের লক্ষ্যবস্তু কোটি ডলারের ‘রেসিং’ কবুতর

আমার দেশ অনলাইন

আন্তর্জাতিক চোর চক্রের লক্ষ্যবস্তু কোটি ডলারের ‘রেসিং’ কবুতর

বিশ্বের অভিজাত রেসিং কবুতর শিল্প এখন এক অদ্ভুত ও উদ্বেগজনক অপরাধচক্রের মুখে। উচ্চমূল্যের প্রতিযোগিতামূলক কবুতর, যাদের বৈজ্ঞানিক নাম কলুম্বা লিভিয়া ডোমেস্টিকা, এখন আন্তর্জাতিক চোরচক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই চক্রকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘পিজন মাফিয়া’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক দৌড়বাজ কবুতর চুরির ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘সিক্সটি মিনিটস’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গত কয়েক বছরে উচ্চমানের রেসিং কবুতর চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান দৌড়বাজ কবুতর প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। কিছু কবুতরের মূল্য এখানে লাখো থেকে শুরু করে কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। গত তিন বছরে অন্তত ৩৫টি বড় চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এই স্থানে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একধরনের আন্তর্জাতিক চক্র চুরি হওয়া কবুতর ব্যবহার করে তাদের প্রজননের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের বংশ তৈরি করছে, যা পরে কালোবাজারে বিক্রি হয়।

Pigeon2

বেলজিয়ামের প্রখ্যাত প্রজননকারী টম ভ্যান গ্যাভারের মতে, তার সংগ্রহে থাকা কয়েকশ কবুতরের মোট মূল্য ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত কবুতর ‘ফিন’, যাকে অনেকেই আকাশের কিংবদন্তি প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচনা করতেন, ২০২৪ সালে তার খামার থেকে চুরি হয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি খামারে ঢুকে ফিনসহ কয়েকটি মূল্যবান কবুতর নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে তিনি ‘পাখির মোনালিসা চুরি’ বলে অভিহিত করেছেন।

এ ধরনের চুরির পেছনে মূল কারণ হলো অত্যন্ত লাভজনক আন্তর্জাতিক রেসিং কবুতরের বাজার। ‘ওয়ান-লফট রেসিং’ নামের এই প্রতিযোগিতায় একেকটি কবুতর শত শত মাইল দূর থেকে নিজ ঘরে ফিরে আসার দক্ষতা দেখায় এবং বিজয়ী পাখির দাম কয়েক লাখ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিজয়ী কবুতরের বংশধরও ভবিষ্যতে অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বেলজিয়ামের নিলাম প্ল্যাটফর্ম পিপিএ বছরে প্রায় ৪ কোটি ইউরোর কবুতর বিক্রি করে, যা এই শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক পরিসর নির্দেশ করে। চীনা ও মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ক্রেতারা এই বাজারের বড় অংশীদার, যেখানে একটি কবুতরের দাম অতীতে ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।

P3

বিশেষজ্ঞদের মতে, চোরচক্র কেবল কবুতরই চুরি করছে না, বরং সেগুলোকে প্রজননের জন্য ব্যবহার করে অবৈধ বাজারে উচ্চমূল্যে বংশধর বিক্রি করছে। এ কারণে অনেক প্রজননকারী এখন কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, সিসিটিভি, এমনকি লেজার-নির্ভর সুরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

ডিএনএ বিশ্লেষণ এখন এই অপরাধ দমনে নতুন আশা জাগাচ্ছে। গবেষকেরা ৭০,০০০-এর বেশি কবুতরের জেনেটিক ডাটাবেস তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে চুরি হওয়া পাখি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

তবুও বহু মূল্যবান কবুতরের অবস্থান এখনো অজানা এবং ‘পিজন মাফিয়া’ নামের এই আন্তর্জাতিক চক্রের তৎপরতা রেসিং কবুতর জগতে নতুন নিরাপত্তার সংকট তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন