রাশিয়ার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে হামলার পর কিয়েভে পাল্টা হামলা রাশিয়ার

রাশিয়ার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে হামলার পর কিয়েভে পাল্টা হামলা রাশিয়ার
Russ Eukraine

রাশিয়ার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুদামে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার ওই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধের পঞ্চম বছরে সর্বশেষ এই হামলা ইউক্রেনের জন্য নতুন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে দেশটি প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়ার হামলার মুখোমুখি হচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক নেতৃত্বে আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে দেশের অভ্যন্তরে বিরল রাজনৈতিক অস্থিরতাও তৈরি হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

কিয়েভে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আসার সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এএফপির এক সাংবাদিক জানান, একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে শহরের কেন্দ্রস্থলে পার্ক করা গাড়িগুলোর অ্যালার্ম বেজে ওঠে।

হামলায় হতাহত মানুষের সংখ্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানায়, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।’

কিয়েভের মেয়র ‘ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন, তবে কোনো মৃত্যুর খবর জানাননি তিনি।

এদিকে, ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, দুজন আহত হয়েছেন।

ক্লিৎসকো ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাতের হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজধানীর সোলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানে এবং একটি সুপারমার্কেটে আগুন লাগে। এছাড়া স্ভিয়াতোশিনস্কি জেলায় একটি বাড়িতে আগুন ধরে যায়।

এছাড়াও দনিপ্রোভস্কি জেলায় একটি শপিং ও বিনোদন কেন্দ্রে, শেভচেনকিভস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনে এবং একটি অনাবাসিক ভবনে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।

-রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা-

শনিবার মস্কো ও তামবভ অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়ে ই-কমার্স গুদাম ধ্বংস করেছে বলে জানায় ইউক্রেন । এতে আটজন নিহত হয় এবং ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

একই দিনে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমাদের বেসামরিক অবকাঠামো, শহর ও সম্প্রদায়ের ওপর রাশিয়ার হামলার জবাবে মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের দুটি বড় লজিস্টিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব স্থাপনা ‘ড্রোন উৎপাদন ও নেভিগেশন সরঞ্জামের জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহে ব্যবহৃত হতো।’

ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা বাড়িয়েছে। কিয়েভ এসব হামলাকে নিজেদের ভূখণ্ডে রাশিয়ার চার বছরের বেশি সময়ের বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ হিসেবে দেখছে।

ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হলো রাশিয়ার তেল অবকাঠামো বা রিফাইনারিগুলো। কিয়েভ একে কার্যকর ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এই কৌশলগত অভিযানের ফলে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিশোধন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়, যার ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাতভর মস্কো অঞ্চলের দিকে ৩৭০টির বেশি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ১১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মস্কোর দিকে আসা প্রায় ১ হাজার ৮৯২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

-যুদ্ধকালীন বিরল বিক্ষোভ-

যুদ্ধ চলার মধ্যেই ইউক্রেনের বড় শহরগুলোতে শনিবার টানা তৃতীয় দিনের মতো হাজারো মানুষ জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন।

প্রযুক্তি-দক্ষ এই মন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আকস্মিক সরকার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরিয়ে দেন। ইউক্রেন যখন যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করছিল, তখন এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরল জনঅসন্তোষ তৈরি হয়।

এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি টানা দুই দিন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে জল্পনা শুরু হয়েছে যে তিনি সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সম্ভাব্য বিকল্প খুঁজছেন কি না।

প্রায় ছয় মাস দায়িত্ব পালনকালে ৬০ বছর বয়সী সিরস্কির সঙ্গে ফেদোরভের একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে চাপের মুখে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করার পক্ষে ছিলেন ফেদোরভ।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন