টানা কয়েক দিন ধরে সংঘাতের পর হুথি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।
গতকাল সোমবার এ ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি।
সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ইয়েমেন টিভিতে দেওয়া ভাষণে সামির আল-সাবরি বলেন, ‘সানা পুনরুদ্ধার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সামনে অনেক চমক আছে; এখনই আমরা সেসব প্রকাশ করছি না।’
একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় একই ঘোষণা দেন ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল নুজাইলি। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা ঘোষণা করছি যে, আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন—সন্ত্রাসী হুথি বিদ্রোহীদের কবল থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সানাকে সকল ইয়েমেনবাসীর রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।’
সরকারের এই লক্ষ্য পূরণে দেশের সব শ্রেণির নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নুজাইলি। তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলছি যে, সকল ইয়েমেনবাসীই ভবিষ্যতের অংশীদার এবং এখানে প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার কোনো স্থান নেই, কিংবা একই জাতির নাগরিকদের মধ্যে কোনো বৈষম্যেরও স্থান নেই।’
কেন এখন সানা পুনরুদ্ধারের অভিযান
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার ও হুথিদের মধ্যে প্রায় আট বছর যুদ্ধের পর ২০২২ সাল থেকে একধরনের অঘোষিত যুদ্ধবিরতি চলছিল। তবে গত জুলাই থেকে হুথিদের দখলে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যমে অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
এর পেছনে ইরানের বর্তমান অবস্থাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এখন আগের মতো হুথিদের সহায়তা ও সমর্থন দিতে পারছে না। ইয়েমেনি সেনাবাহিনী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হুথিদের দখল করা এলাকাগুলো ফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
এখন সেই অভিযানের লক্ষ্য রাজধানী সানা। সানা পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাই জানিয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।
ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের শুরু
ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। এর এক বছরের মধ্যে, ২০১৫ সালে, ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে।
রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।
বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের অনুগত। কয়েক বছর আগে এই প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
গাজা যুদ্ধের পর আঞ্চলিক সংঘাতে হুথিরা
২০২৩ সালের শেষের দিকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুথিরা আঞ্চলিক সংঘাতে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ে। তারা ইসরাইল ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


