ঢাকার সাভারে ছাত্রদল নেতা মোনারুল ইসলাম বকশীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. মিন্টুকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩)।
শনিবার রাত ১০টার দিকে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের সৈয়দপুর বাজার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. মিন্টু ওই হত্যা মামলার ২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। তিনি পীরগাছা থানার সুল্লিপাড়া গ্রামের মো. ফুল মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই নিহতের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিক ‘মিম’ নামের এক কিশোরীর সঙ্গে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই কিশোরীর অবস্থান ঢাকার সাভারে শনাক্ত করে।
এজাহারে বলা হয়, গত ৬ আগস্ট রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আসামিরা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সাভারের বিপিএসটি এলাকায় নিহত মোনারুল ইসলাম বকশীর বাসায় যান। সিকিউরিটি গার্ডকে স্বজন পরিচয় দিয়ে তারা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন এবং কিশোরীকে খুঁজতে থাকেন।
তাকে ঘরে না পেয়ে কিশোরীর বাবা ও চাচা মোনারুল ইসলাম বকশীকে জোরপূর্বক পাঁচতলার ছাদে নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মোনারুলকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত মোনারুলের ভাই বাদী হয়ে গত ১৫ আগস্ট সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৭১। মামলা দায়েরের পর থেকে এজাহারভুক্ত আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুরের একটি আভিযানিক দল পীরগাছা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলার ২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো. মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

