১৫ আগস্ট রাজধানীর ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন দুই নারী। তাদের মধ্যে একজন সুমা বড়াল। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেরই প্রশ্ন, কে এই সুমা বড়াল? কী তার পরিচয়—এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মহলে।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কুরমণি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত প্রতুল কুমার বড়ালের মেয়ে সুমা বড়াল; ডাকনাম ডলি। তারা দুই বোন ও এক ভাই। সুমা বড়াল সবার ছোট। তার মায়ের নাম সাধনা বড়াল।
সুমা বড়াল চিতলমারী হাসিনা বেগম বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর বাগেরহাট খানজাহান আলী কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে বর্তমানে ঢাকায় আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি এখনো অবিবাহিত। ভাইয়ের সঙ্গে একই সংসারে থাকেন।
গত ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে ফেলা ভাস্কর্য জড়িয়ে ধরে সুমা বড়ালকে কান্না করতে দেখা যায়। এটির একটি ভিডিও তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন।
এ ছাড়া ওই দিন রাতে সুমা বড়াল ও তার সঙ্গে থাকা আরেক নারী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত রাজধানীর ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে জনতার তোপের মুখে পড়েন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তাদের এসব কর্মকাণ্ডের পর অনেকে ওই দুই নারীকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং তাদের বিচার দাবি করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
সুমা বড়ালের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি রয়েছে। ফেসবুকে তিনি এসব ছবি শেয়ারও করেছেন। অন্যদিকে, শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বাস্তবে সুমা বড়াল কোন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
সুমা বড়ালের ভাই লিটন বড়াল জানান, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের পরিবার যুক্ত নয়। তার বোন সুমা বড়াল বর্তমানে ঢাকায় একটি আইন কলেজে পড়াশোনা করছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

