আমার দেশে সংবাদ প্রকাশের পর

মোহনগঞ্জে লুট হওয়া ব্লক ফেরত দিচ্ছে এলাকাবাসী

মোহনগঞ্জে লুট হওয়া ব্লক ফেরত দিচ্ছে এলাকাবাসী
ছবি: আমার দেশ

আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের চরহাইজদা ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের লুট হওয়া ব্লক ফেরত দিতে শুরু করেছেন এলাকাবাসী। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লুট হওয়া ব্লক ফেরত দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লুট হওয়া ২ হাজার ৬৪৪টি ব্লকের মধ্যে ১ হাজার ৫৭৮টি ব্লক ফেরত দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে চরহাইজদা ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের ব্লক লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় লোকজনের বিরুদ্ধে। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে পাউবোর পক্ষ থেকে মোহনগঞ্জ থানায় সাধারণ জিডি করা হয়।

এ ঘটনায় ব্লক ফেরত দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সময় বেঁধে দেওয়া হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। এরপর থেকেই লুট করা ব্লক ফেরত দিতে শুরু করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের বারান্তর গ্রামের পাশে অবস্থিত চরহাইজদা বাঁধের চিকাডুবি অংশ থেকে গত ১৮ আগস্ট রাত থেকে কিছু অসাধু ব্যক্তি কংক্রিটের ব্লক লুট করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কেউ এসব ব্লক বিক্রি করেছেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। চিকাডুবি বাঁধটি হাইজদা বাঁধ প্রকল্পের অংশ। গাজরিয়া নদীর পানি যাতে হাওরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য ২৫০ মিটার দীর্ঘ এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে, বাঁধটি নির্মাণে সরকারের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং এতে প্রায় ১৯ হাজার ৯৪০টি কংক্রিটের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, লুট করা ব্লক দিয়ে গবাদিপশুর ঘর নির্মাণ, ধানের মাচা, মাটি ক্ষয়রোধ ও অস্থায়ী গোসলের ঘাট তৈরি করা হচ্ছিল। কিছু ব্লক বিভিন্ন পরিবারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাঁধ থেকে ব্লক লুট হওয়ার বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ আগস্ট ‘নেত্রকোনায় ফসলরক্ষা বাঁধের ২ হাজারের বেশি ব্লক লুট, আতঙ্কে কৃষক’ শিরোনামে আমার দেশ-এর অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর প্রশাসন ও পুলিশ তৎপর হয়। পরে লুট হওয়া ব্লক উদ্ধারে স্থানীয়দের নিজ উদ্যোগে সেগুলো ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানায় প্রশাসন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ২০১৯ সালে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার এলাকায় ব্লক দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পাউবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন বলেন, সম্প্রতি কিছু মানুষ বাঁধের ওপর থেকে কংক্রিটের ব্লক চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এলাকাবাসী ব্লক ফেরত দিতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি ব্লক ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্লকের সন্ধান করা হয়েছে। যারা এসব ব্লক নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের নিজ উদ্যোগে ব্লক ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। এরপর থেকেই লোকজন ব্লক ফেরত দিতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘সব ব্লক ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কারও বাড়িতে এসব ব্লক পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ায় এলাকাবাসী ব্লকগুলো ফেরত দিচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের উদ্যোগে লুট করা ব্লকগুলো স্বস্থানে ফেরত দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ব্লক ফেরত আসবে। এরপর কারও বাড়িতে চুরি যাওয়া ব্লক পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন আমার দেশকে বলেন, ওই বাঁধ থেকে ২ হাজার ৬৪৪টি ব্লক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন ১ হাজার ৫৭৮টি ব্লক ফেরত দিয়েছেন। আশা করছি, সবগুলো ব্লকই ফেরত আসবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন