হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দু’জন ইইউ কূটনীতিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইইউর রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে, ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার মানদণ্ড পরিবর্তন করা হবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থাকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করবে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বন্ধ হয়ে যায়, যা বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল ইইউ। এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত মার্চেও বেশ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
গত শুক্রবার ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলে ডজনেরও বেশি ট্যাঙ্কার সেখান দিয়ে যাতায়াত করে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ জব্দ করার পর চলমান যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই ইইউ এই নতুন নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটল।
উল্লেখ্য, ইইউর নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞার তালিকা প্রস্তুত করে এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস, আর সামগ্রিক খাতের ওপর বিধিনিষেধ তদারকি করে ইউরোপীয় কমিশন। এই নতুন পদক্ষেপের ফলে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : আল-জাজিরা
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

