নেত্রকোনার পূর্বধলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ১৪ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার ভোরে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের পাবই এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা সভাপতি পদপ্রার্থী হাসিব ইবনে হান্নান রিদমের নেতৃত্বে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন নেতা-কর্মী শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পাবই এলাকায় জড়ো হন। সেখানে তারা মিছিল করার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ পূর্বধলা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে ১১ জনকে আটক করে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—আটপাড়া উপজেলার মারুফ হোসেন মুন্না (২০), সিয়াম আহমেদ (১৮), শিপন মিয়া (১৮) ও ইবনে শফি সামি দ্বীপ (১৮)। পূর্বধলা উপজেলার জাহিদুল হাসান ফয়সাল (২৫), মো. নাঈম ইসলাম (২৮), লোকমান আহম্মেদ (২৬), ফজলে এলাহী ময়না (২৯), মাহফুজ আকম শরীফ (২৬), শাওন শেখ (১৬) ও ইমরান (১৫)।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল পৃথক অভিযান চালায়। অভিযানে আটপাড়া উপজেলার সুখারি এলাকা থেকে আরিফ জাহান বিজয় (১৯) ও শ্রীরামপাশা এলাকা থেকে রুদ্র মিয়া (১৯) নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়। পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়। এ নিয়ে পুলিশ ও ডিবির পৃথক অভিযানে মোট ১৪ জন আটক হয়েছেন।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পূর্বধলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ তাইজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

