দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে দ্বিতীয় দফায় বিশেষজ্ঞ দল, মেলেনি বিষাক্ত গ্যাস

দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে দ্বিতীয় দফায় বিশেষজ্ঞ দল, মেলেনি বিষাক্ত গ্যাস
ঘটনাস্থলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে দুর্ঘটনাকবলিত ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ তদন্ত দল। পরিদর্শনে জাহাজে কোনো বিষাক্ত গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ সময় দুর্ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে দলটি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার আমার দেশকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলটি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় দিনের পরিদর্শন।

তিনি বলেন, পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ৮ ইঞ্চি বাই ৮ ইঞ্চি একটি কাটিংয়ের ভেতর থেকে পানি বের হচ্ছে। তবে ওই অংশটি এখনো কাটা হয়নি। শুধু কাটিং শুরু করার সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে। যে স্থান থেকে গ্যাস নির্গত হয়েছিল, সেখান থেকে এখন পানি বের হচ্ছে।

শফিউল আলম তালুকদার বলেন, গ্যাস ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করেও কোনো বিষাক্ত গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি অন্য কোনো টক্সিক এলিমেন্টও পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে প্রান্তিক মেরিন ও আলিফ মেরিন নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ছিলেন। কাজে সহযোগিতার জন্য তাদের বিশেষভাবে আনা হয়েছে।

মহাপরিচালক আরো বলেন, মঙ্গলবারের পরিদর্শন অনেকটাই প্রস্তুতিমূলক ছিল। সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে সাত সদস্যের দলটি দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার দুর্ঘটনার সময় সেখানে বিষাক্ত গ্যাস ছিল। গ্যাসটি আগে থেকেই জাহাজের ভেতরে জমে ছিল। কাটিংয়ের ফলে সেই জমে থাকা গ্যাস বেরিয়ে আসে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং জাহাজভাঙা শিল্প মালিকদের সংগঠন বিএসবিআরএর পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়। এরপর রোববার শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্যের আরো একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়।

এই দলে রয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খান, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ এবং ঢাকার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মোহাম্মদ মেহেদি ইসলাম খান।

পরে আরো চারজনকে ওই দলে যুক্ত করা হয়। তারা হলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন, বিএসবিআরএ’র ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান এবং শিপিং বিভাগের আরাফাত।

পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিএসবিআরএর পৃথক কমিটিগুলোও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন