স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থী ৫০ বার সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ, অতঃপর…

স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থী ৫০ বার সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ, অতঃপর…
২০২৪ সালে উত্তর প্রদেশের গভর্নর আনন্দীবেন প্যাটেলের হাত থেকে স্বর্ণপদক ও স্বীকৃতি গ্রহণ করছেন আনন্দ কুমার। ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় এক স্বর্ণপদকজয়ী তরুণ প্রকৌশলী আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার উত্তর প্রদেশের গোবিন্দ নগর থানার গুজাইনি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আনন্দ কুমার (২৩) ২০২৪ সালে কানপুরের একটি স্বনামধন্য প্রকৌশল কলেজ থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক সম্পন্ন করেন। রাজ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করায় ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট কলেজের এক অনুষ্ঠানে উত্তর প্রদেশের গভর্নর আনন্দীবেন প্যাটেলের হাত থেকে তিনি স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ লাইনের একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে তিনি বারবার বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, “সরি বাবা, সরকারি চাকরির জন্য ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিও।” চিরকুটে ‘সরি’ শব্দটি সাত থেকে আটবার লেখা ছিল।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে, যখন পরিবারের গৃহকর্মী বাসায় এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে তিনি পরিবারের সদস্য ও পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আনন্দের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার সময় আনন্দের বাবা ও দাদা বড় ছেলের বিয়ের কথা চূড়ান্ত করতে বিহারে গিয়েছিলেন। আনন্দেরও তাদের সঙ্গে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি যাননি।

আনন্দের বাবা রাজকুমার বিহারের বক্সারের বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। তিনি ছেলেকে নিয়ে কানপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। আনন্দের ভাই ও বোন বিহারে সরকারি স্কুলের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

পড়াশোনা শেষ করার পর আনন্দ সরকারি চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরিও করছিলেন। তবে বারবার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তিনি মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া। এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন