ভারতের দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ২১ জনের মৃত্যুর তিন দিন পর হোটেলের রাঁধুনি কেশব নেগিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার সকালে ফ্লারিশ ইন হোটেলে আগুন লাগে। এতে ২১ জন অতিথি নিহত হন। এদের মধ্যে ৯ জন ভারতীয় এবং ১২ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, কেশব নেগির অবহেলার কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় নেগিসহ আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার পর বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর কেশব নেগি প্রাণ বাঁচাতে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। তিনি দাবি করেছিলেন, বিস্ফোরণের পর তিনি হোটেলের মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে বাইরে চলে আসেন।
তবে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় হোটেলের ইলেকট্রনিক দরজাগুলো লক হয়ে যায়। এতে বহু অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন। এক দম্পতি বাথরুমে আটকা পড়ে শ্বাসরোধে মারা যান, কারণ তারা দরজা খুলে বের হতে পারেননি।
পুলিশের মতে, নেগির এই অবহেলাপূর্ণ পদক্ষেপের কারণে অনেক মানুষ আগুনে ঘেরা ভবন থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
তদন্তকারীরা এখন পুরো ঘটনার বিস্তারিত কারণ খতিয়ে দেখছেন। হোটেলের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই আগুনে আরো ১২ জন আহত হয়েছেন। এটি ২০২২ সালের পর দিল্লিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


