পশ্চিমবঙ্গে মসজিদে ঢুকে ভাঙচুর, ছিঁড়ে ফেলা হলো কুরআন

আমার দেশ অনলাইন
কলকাতা প্রতিনিধি

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদে ঢুকে ভাঙচুর, ছিঁড়ে ফেলা হলো কুরআন

পশ্চিমবঙ্গের মসনদে গেরুয়া শিবিরের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক তাণ্ডব, যার কলঙ্কিত কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কোচবিহারের একটি পবিত্র ধর্মস্থান।

কোচবিহারের ‘ছোট মসজিদ’ নামে পরিচিত একটি মসজিদ এখন শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং গভীর ক্ষত ও হাহাকারের প্রতীক, যেখানে বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা জয়োল্লাসের নামে ঢুকে তছনছ করে দিয়েছে সবকিছু। মসজিদের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পবিত্র কোরআন শরীফের ছেঁড়া পাতা এবং ভাঙা আসবাবের সামনে দাঁড়িয়ে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।

বিজ্ঞাপন

এক বৃদ্ধ মুসল্লি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তারা কোনোদিন ভাবেননি বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে মসজিদের ভেতরে এভাবে আক্রান্ত হতে হবে এবং তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থকে এভাবে লাঞ্ছিত করা হবে।

অপর এক যুবক আতঙ্কিত কণ্ঠে জানান, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই গেরুয়া আবির মেখে একদল উন্মত্ত লোক বাইক নিয়ে মসজিদের সামনে এসে উস্কানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল, এরপর হঠাৎ করেই তারা ভেতরে ঢুকে এই নারকীয় কাণ্ড ঘটায়। রাজ্যের আনাচে-কানাচে এখন সংখ্যালঘু বিদ্বেষের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে, এবং কোচবিহার থেকে বীরভূম সর্বত্রই মুসলিম সম্প্রদায়ের দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার ‘৭০-৩০’ বিভাজনের রাজনীতি উসকে দিয়েছেন। তার এই উত্থানই দুষ্কৃতীদের মনে এক ধরনের ইনডেমনিটি বা ছাড়পত্রের অনুভূতি তৈরি করেছে।

এদিকে খোদ কলকাতায় তৃণমূলের দপ্তরগুলোতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটছে, এবং বিজেপি নেতা-কর্মীরা জয়ী হয়েই আমিষ খাবার ও বিরিয়ানির দোকান বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছে, যা বাংলার খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যখন ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই রাজ্যের অন্যপ্রান্তে এক সংখ্যালঘু মা নিজের ঘর পুড়তে দেখে হাহাকার করছেন।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এটাই কি সেই ‘সোনার বাংলা’, যার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল? পুলিশ ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততা এবং নবনির্বাচিত শাসকদলের আগ্রাসী মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হতে পারে, যেখানে শান্তির চেয়ে বিদ্বেষই রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...